দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে জল্পনার আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, আর্থিক চাপ সামাল দিতে ভারতের সঞ্চিত স্বর্ণভাণ্ডারের একটি বড় অংশ বিক্রি করা হয়েছে। তবে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)।
সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং টাকার উপর চাপের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতে সোনা বিক্রির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণভাণ্ডার কমেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১,২০০ কোটি মার্কিন ডলার।


রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভারতের অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণভাণ্ডার কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। RBI স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের সঞ্চিত সোনা বিক্রির যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। এই ধরনের রিপোর্ট বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পিআইবি ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাখ্যায়ও একই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, দেশের স্বর্ণভাণ্ডার নিয়ে যেসব তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, তার মধ্যে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা রয়েছে এবং সোনা বিক্রির দাবির কোনও ভিত্তি নেই।


যদিও RBI-র ব্যাখ্যার পরও অর্থনৈতিক মহলের একাংশে আলোচনা থামেনি। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানি আমদানির বাড়তি খরচ এবং মুদ্রার উপর চাপ— এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এবং স্বর্ণভাণ্ডার সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এই ধরনের দাবি সামনে এলে সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাজারে আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফলে আপাতত RBI-র অবস্থান একেবারে স্পষ্ট— দেশের সঞ্চিত সোনা বিক্রি করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। তবে অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি নিয়ে নজর যে অব্যাহত থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



