দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, পুজোর আগেই অক্টোবর মাসের বেতন এবং ঘোষিত ২০ শতাংশ বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance – DA) একসঙ্গেই দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ভবানী ভবনে এক সরকারি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ডিএ-সংক্রান্ত প্রত্যাশার মধ্যেই এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের (IPS) আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও ডিএ কার্যকর হলেও, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ডিএ-র ব্যবধান ছিল। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে সেই ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে সরকার এগোচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি বাজেটেই রাজ্য সরকার ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে অর্থসচিব ও অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গাপুজোর আগেই অক্টোবর মাসের বেতন এবং বর্ধিত ডিএ কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “পুজোর মাসে কর্মচারীরা যাতে আর্থিক স্বস্তি পান, সেই বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। তাই অক্টোবরের বেতন এবং ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ উৎসবের আগেই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
শুধু ডিএ নয়, রাজ্যের সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের একাধিক রাজ্যে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন এখনও কার্যকর হয়নি। ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং কমিশনের রিপোর্ট হাতে এলেই তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ। পরে রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। সেই অনুযায়ী প্রথমে নভেম্বরে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত ডিএ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণার ফলে সেই সময়সীমা এগিয়ে এনে দুর্গাপুজোর আগেই কর্মচারীদের হাতে বেতন এবং ডিএ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই ঘোষণায় উৎসবের মরশুমে লক্ষাধিক রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অর্থ বিতরণ কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেদিকে।



