পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার তিনি জানান, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance/DA)-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিদ্যুৎ ভবনে এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ ইতিমধ্যেই প্রস্তুত হয়েছে। তা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন গঠন করা হবে এবং চলতি আর্থিক বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো চালুর চেষ্টা করা হবে।
ডিএ প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা মোট ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র যে পার্থক্য রয়েছে, তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি বকেয়া ডিএও নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা ছড়ানো হলেও সরকার কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাঁর কথায়, এক ধাক্কায় ৪২ শতাংশ কিংবা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার পরিবর্তে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি ব্যবধানও ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অতীতের বেতন কমিশনের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের রিপোর্ট দীর্ঘদিন প্রকাশ না হওয়ার পিছনে তৎকালীন সরকারের আর্থিক অবস্থাই অন্যতম কারণ ছিল। সেই সময় কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া নিয়েও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকার গঠনের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই সরকারি কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে রাজ্যের কর্মচারীরা মোট ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ ও নতুন বেতন কমিশনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা কর্মচারী সংগঠনগুলির কাছে মঙ্গলবারের ঘোষণা তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের উদ্দেশেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশাসনের মধ্যে ভয় বা অনিশ্চয়তার পরিবেশ দূর করে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে আরও স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।



