পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। শিল্প করিডর, লজিস্টিক হাব, ইলেকট্রিক বাস, সাশ্রয়ী আবাসন থেকে পর্যটন বিকাশ— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থা। নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উঠে এসেছে এই প্রস্তাবগুলি, যা নিয়ে এখন প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে বৈঠক করেন এডিবির প্রতিনিধিরা। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্পভিত্তিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, এডিবির তরফে দেওয়া প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বাজেট ঘোষণার পরপরই এই বৈঠক হওয়ায় বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
সম্প্রতি বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশের সময় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। সেই প্রেক্ষাপটে এডিবির আগ্রহকে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চারটি ‘সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন’ বা ‘সিইআর’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প, বাণিজ্য ও নগর উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও কলকাতা–ডানকুনি–দুর্গাপুর–আসানসোল ম্যানুফ্যাকচারিং করিডর তৈরিতে আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে হলদিয়া–খড়গপুর শিল্প করিডর এবং শিলিগুড়ি–জলপাইগুড়ি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ করিডর গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ডানকুনি, শিলিগুড়ি এবং হলদিয়ায় আধুনিক লজিস্টিক হাব তৈরির পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে এডিবি।
সামাজিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। পরিযায়ী শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ার আবাসন প্রকল্প, পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলার উদ্যোগেও আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার আগ্রহ দেখানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে এডিবির এই প্রস্তাবগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনিক ও শিল্প মহলের।



