তৃণমূল কংগ্রেসের দুই ভাবী বিধায়কের শপথগ্রহণ ঘিরে রাজভবন ও রাজ্য সরকারের সংঘাত তুঙ্গে। প্রশ্ন হল, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রায়াত হোসেন কোথায় শপথবাক্য পাঠ করবেন? রাজভবনে তাঁরা যেতে নারাজ। ওদিকে বারবার ডাকছেন রাজ্যপাল। সায়ন্তিকা, রায়াতের দাবি, তাঁরা শপথ নেবেন বিধানসভাতেই। রাজ্যপালও অনড়। তাঁর বক্তব্য, তিনি বিধানসভায় শপথবাক্য পাঠ করাতে যাবেন না।
আরও পড়ুন: ওম বিড়লাকে অভিনন্দন, মোদির সঙ্গে হাত মেলালেন রাহুল
গত ৪ জুন ফল প্রকাশের পর প্রায় তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত। লোকসভায় সাংসদরা পর্যন্ত শপথগ্রহণ করে ফেলেছেন। তবে বরানগর এবং ভগবানগোলা উপনির্বাচনে জিতেও সায়ন্তিকারা এখনও শপথ নিতে পারলেন না বিধায়ক হিসেবে। কারণ, সায়ন্তিকারা কোথায় শপথ নেবেন তা নিয়ে টানাপড়েন চলছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। এই আবহে বিধানসভাকে অবগত না করেই শপথের জন্যে সায়ন্তিকাদের সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছে রাজভবন। এরপরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যয় ‘সাংবিধানিক বিধি’ মনে করিয়ে পালটা চিঠি লেখেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে। পরে সায়ন্তিকারাও রাজ্যাপালকে চিঠি লিখে জানান, রাজভবনে নয়, বরং বিধানসভায় স্পিকারের কাছেই বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে চান তাঁরা।



তবে এসবের মাঝে মঙ্গলে রাজভবনের তরফ থেকে একটি বিবৃতি পেশ করে জানানো হয়, নবনির্বাচিত প্রার্থীদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে যে চিঠি স্পিকার দিয়েছেন, তাতে রাজ্যপাল এবং রাজভবনের সাংবিধানিক মর্যাদাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। কারণ সংবিধানেই বলা আছে বিধায়কদের শপথগ্রহণের বিষয়ে শেষ কথা বলবেন রাজ্যপাল। তাই বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ বিধায়ক হিসাবে শপথ নেওয়ার জন্য সায়ন্তিকাদের সেই চিঠিএ পাঠানো হয় রাজভবনের তরফে।
অব্যাহত টানাপোড়েন! সায়ন্তিকা-রায়াতের শপথ কি আজ?

অপরদিকে সায়ন্তিকাদের তরফে জানানো হয়েছে, আজ অর্থাত্ বুধবার তাঁরা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বিধানসভায় অপেক্ষা করবেন। রাজ্যপাল ও তাঁর মনোনীত কোনও প্রতিনিধি এসে শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। রাজভবনে তাঁরা যাবেন না।


এখন প্রশ্ন হল, দুই জয়ী প্রার্থীকে শপথবাক্য আদৌ আজ পাঠ করানো হবে নাকি, বিষয়টি ঝুলে রইল, সেটাই দেখার।







