আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়। আবারও আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে এই হাসপাতাল। সিবিআই ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার বাবা-মা। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগের দিকটিও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে এই মর্মে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েছে। শীঘ্রই শুনানির দিন নির্ধারণ হবে।
পরিবারের বক্তব্য স্পষ্ট—এই তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁদের দাবি, গোটা ঘটনার গভীরে পৌঁছতে হলে শুধু একজন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করলেই চলবে না, তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাজও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


আদালতে কী চাওয়া হয়েছে?
মঙ্গলবার নির্যাতিতার বাবা-মা স্বশরীরে শিয়ালদহ আদালতে উপস্থিত হন। তাঁদের আইনজীবী জানান, আবেদনপত্রে মূলত তিনটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে—
-
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভূমিকা
-
সিবিআইয়ের তদন্তের গতি ও পদ্ধতি
-
ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগ
পরিবারের মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও অন্ধকারে রয়ে গেছে। আদালতের নজরদারিতে সেই দিকগুলি পুনরায় পরীক্ষা করা হোক, এই আবেদনই করেছেন তাঁরা।

এক নজরে মূল তথ্য
-
২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন
-
প্রথমে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ
-
হাই কোর্টের নির্দেশে পরে সিবিআই হাতে নেয় তদন্তভার
-
একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে চার্জশিটে নাম সঞ্জয় রায়ের
-
নিম্ন আদালতে ইতিমধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কী ঘটেছিল আরজি কর হাসপাতালে?
২০২৪ সালের অগস্টে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ঘটে যায় নৃশংস অপরাধ। এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে।
প্রথম পর্যায়ে তদন্ত চালায় কলকাতা পুলিশ। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সিবিআই গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে শিয়ালদহ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
চার্জশিটে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় নিম্ন আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি বিতর্ক।
কেন অসন্তুষ্ট পরিবার?
নির্যাতিতার বাবা-মা শুরু থেকেই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গোটা ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। অথচ তদন্তে সেই সম্ভাবনাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
গত মাসে সিবিআই শিয়ালদহ আদালতে অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পরিবারের আইনজীবী। তাঁর দাবি, রিপোর্টে “ফলপ্রসূ” কোনও অগ্রগতি নেই।
বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—
-
কেন নির্যাতিতার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি?
-
তদন্তের কোন কোন দিক এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে?
-
কারা সম্ভাব্যভাবে আড়ালে রয়ে গিয়েছে?
অন্যদিকে সিবিআইয়ের বক্তব্য, কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বা হবে না, তা তদন্তকারী সংস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
রাজনৈতিক যোগের প্রশ্ন
পরিবারের তরফে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে—ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা যোগ থাকতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে আদালতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে এই সম্ভাবনাটিও খতিয়ে দেখতে।
এই দাবি স্বাভাবিকভাবেই মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ যদি রাজনৈতিক যোগের প্রমাণ মেলে, তবে তদন্তের পরিধি এবং দায়বদ্ধতা—দু’টিই নতুন মাত্রা পাবে।
সামনে কী?
এখন নজর শিয়ালদহ আদালতের দিকে। আবেদন গৃহীত হলে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেটাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আপনি যদি এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বা সংশয় অনুভব করে থাকেন, তবে আগামী শুনানি অনেক উত্তর সামনে আনতে পারে।
একটি প্রশ্ন এখন ঘুরছে—আরজি কর কাণ্ডে কি সত্যিই সব সত্য সামনে এসেছে, নাকি এখনও কিছু অজানা থেকে গেছে?
আগামী দিনের আদালত নির্দেশ এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা—দু’টিই এখন বড় পরীক্ষার মুখে।










