অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির জেরার মুখোমুখি হওয়ার মাঝেই নতুন করে সামনে এল ‘ডিজে মন্তব্য’ বিতর্ক। সেই মামলার তদন্তভারও এবার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা CID-এর হাতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিক সভা থেকে ফল ঘোষণার পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি ডিজে বাজানোর মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই দায়ের হয়েছিল অভিযোগ।
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট মামলার সমস্ত নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওর লিঙ্ক ইতিমধ্যেই CID-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখবেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্য এবং ডিজে সংক্রান্ত বক্তব্যের বিরুদ্ধে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরে মামলাটি CID-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তদন্ত জোরদার হয়েছে। এই মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
শুনানির সময় বিচারপতি কৌশিক চন্দ অভিষেকের হাজিরা এড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন। তদন্তে সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে CID-এর কাছে হাজিরা দিতে হবে।
পরবর্তীতে অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা পেলে তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁকে ২১ দিনের রক্ষাকবচ দেয়।
তবে সেই সঙ্গে বিচারপতি নির্দেশ দেন, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে CID দফতরে হাজিরা দিতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই এদিন তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
একদিকে সই জালিয়াতি মামলা, অন্যদিকে ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগ—দুটি পৃথক তদন্ত এখন CID-এর হাতে। ফলে আগামী দিনে এই দুই মামলার অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।



