পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে এবার রাজ্যজুড়ে বড়সড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০ জুন প্রথমবার সরকারি ভাবে এই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, প্রদর্শনী ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার সদর দপ্তরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি জেলার গ্রন্থাগার, সংগ্রহশালা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেও জনসাধারণের জন্য আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকারি নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলার ইতিহাস এবং কেন ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০ জুন প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে পালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস, জেলায় জেলায় বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ


শুধু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানই নয়, জেলার সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ও আইটিআই প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই উদযাপনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ বক্তৃতা, সেমিনার এবং স্মারক আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বার্ষিক স্মারক বক্তৃতা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ, প্রবন্ধ রচনা এবং ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি জেলায় ‘জেলা-স্তরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। জেলাশাসক থাকবেন ওই কমিটির চেয়ারম্যান পদে।
কমিটিতে জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, শিক্ষা আধিকারিক এবং বিভিন্ন পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কদেরও এই কমিটির সদস্য হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে।
২০ জুন তারিখটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই অবিভক্ত বাংলার অ-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোটাভুটির মাধ্যমে ভারতের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে মত দেন। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, সেই সিদ্ধান্তই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ প্রশস্ত করেছিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি স্বীকৃতি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন। সেই ইতিহাস, সংগ্রাম এবং সিদ্ধান্তের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
২০ জুনের এই উদযাপনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে পালিত হতে চলা পশ্চিমবঙ্গ দিবস রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



