মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল সিবিআই। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলা থেকে জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ ওরফে মনু নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁকে কলকাতায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই গ্রেফতারি মামলার জট খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘিরে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার তদন্তের জালে ধরা পড়লেন জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ, যাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলার অভিযোগ রয়েছে।


সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার শীতলদাবানি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১২টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গ্যাংস্টার অ্যাক্ট’-এর আওতায় মামলাও দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ২৫ মে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার বালিয়ার একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে মউ জেলা সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল।
সেখান থেকেই বারাসত আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিবিআই। স্থানীয় আদালতের সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।


চন্দ্রনাথ রথ হত্যার তদন্তে এর আগেও উত্তরপ্রদেশ থেকে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। গত মাসে বালিয়ার বাসিন্দা রাজকুমার সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে দিল্লিতে তাঁর খোঁজে অভিযান চালানো হলেও পরে উত্তরপ্রদেশের একটি টোল প্লাজার কাছ থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। পরদিন বারাণসী থেকে গ্রেফতার হন আরেক অভিযুক্ত বিনয় রায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। মোটরবাইকে করে আসা আততায়ীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় গাড়ির চালকও আহত হন।
প্রথমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তদন্তে অগ্রগতি করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সিবিআইয়ের ধারণা, ধৃত জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্র, অর্থের লেনদেন এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ফলে এখন এই গ্রেফতারিকে মামলার অন্যতম বড় অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



