মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে মালদহ কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল ও তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবারের এই বৈঠকে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাংসদ, বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে যোগ দিতে এসে হুমায়ুন কবীর বলেন, মুর্শিদাবাদ বহু বছর ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছে এবং সেই সমস্যা দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিধায়কের দাবি, ২০০৭ সালে রেজিনগরের জাতীয় সড়ক সংলগ্ন প্রায় ১৮৩ একর জমিতে শিল্পতালুক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই প্রকল্প কার্যত থমকে যায়। তাঁর অভিযোগ, ২০১১ সালের পর থেকে জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
তিনি জানান, প্রশাসনিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদের রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন নওদার বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই জমছিল এবং সেই কারণেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তিনি প্রাক্তন শাসকদলকে নিশানা করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর। তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং তদন্তের ফলাফল সামনে আসবে।
মালদহের প্রশাসনিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন শাসকদলকে ঘিরে তাঁর আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



