নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতার পুলিশ খুন করেছে, ‘হাল না ছাড়া’ কমরেডকে লাল সেলাম বিবি আলেয়ার! “যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান!” তাঁর নিজের মতোই আরও হাজার হাজার মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজের জান দিয়ে গেলেন মইদুল। পুলিশের লাঠির আঘাতে শরীর যখন দিচ্ছিলোনা, বারবার বলেছিলেন গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে। মেয়ে দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে ফুসফুসে হাওয়া ভরতেন, যে ফুসফুসে জল জমেছিল তাঁর।
গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন মইদুল। ওই গ্রামেই মাটি দেওয়া হবে তাঁর। গোটা পাড়া-গ্রাম অপেক্ষা করে আছে ‘হাল না ছাড়া’ কমরেডকে লাল সেলাম জানাতে। তারপর আবার সব এক হবে। মাটিতে আবার মাটি পড়বে, শুধু দিনে দিনে অথৈ জলে ভাসতে থাকবে একটা গোটা পরিবার। ১১ বছরে বাংলায় প্রতিশ্রুতি এসেছে যত চাকরি এসেছে তার অনেক ভাগ কম। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, নিজেদের কথা জানতে নবান্ন অভিযান করেছিলেন SFI এবং DYFI এর কর্মীরা।


শুধু বলেছিলেন গোটা রাজ্যে ১১ বছরে যেখানে একটাও চাকরি হয়না তাঁকে একবার সামনে থেকে দেখে আসবো না? সেই দেখতে যাওয়া, চোখে চোখ রেখে উত্তর চাইতে যাওয়া যে বিপ্লবের শেষ দিন হবে কে জানতো? ১১ তারিখে পুলিশের লাঠিতে আহত হন মইদুল। অবস্থার অবনতি হতে থাকায় কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসারত ছিলেন ১৩ তারিখ থেকে। ডাক্তার জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত লাঠি চার্জের ফলেই ঘটেছে এই মৃত্যু।
আরও পড়ুনঃ আমন্ত্রনই জানানো হয়নি, ফের কানহাইয়ার ভাষণে বঞ্চিত হবে লাখো জনতার ব্রিগেড?
মইদুলের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন সিপিএম নেতা ফুয়াদ হালিম। তিনি জানান পুলিশের প্রচণ্ড মারে মইদুলের শরীরের একাধিক মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। ফলে সডিয়াম, পটাশিয়াম বেরিয়ে গিয়ে ফুস্ফুসে জল জমতে শুরু করে জল। পেশি থেকে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে যায়, আজ সকালে আচমকাই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট নিয়ে গেল বছর ৩১ এর একটা প্রাণ। পুলিশের লাঠি খেয়ে মইদুল বারবার বলছিলেন, “আর বাঁচবুনি, বাঁচবুনি আর।” কিন্তু হাতে হাত রেখে ব্যারিকেড গড়তে যানে যে, সে এতো সহজে হারবেনা, সেই বিশ্বাস ছিল সব্বার।


কিন্তু বন্ধু, সহকর্মী, প্রতিবেশী সবাইকে থামিয়ে চলে গেছেন তিনি আজ সকালেই। যে মেয়েদের মুখ দেখবেন বলছিলেন, তাঁরা দাঁড়িয়ে আছে। মইদুলের স্ত্রী বুঝতে পারছেন না স্বামীকে হাড়া সংসারের হাল ধরবেন কীভাবে। পেশায় টোটো চালক মইদুল কয়েকমাস হয়েছিল কিনেছিলেন নিজের অটো। চলে যেত ৫ জনের সংসার। কিন্তু মেহনতি মানুষই তো ভাবে মেহনতি দের কথা। মইদুল ভাবতেন সবাই ভালো থাকবে। ভাবতেন সমধান আসবে,আসবে উত্তর। অটো চালিয়েও যেভাবে সংগঠনের জন্য সময় দিতেন তাতে অবাক হতেন অনেকেই।
এদিন শোনা গেছে তাঁর প্রতিবেশিদের মুখে ভালবাসা না থাকলে এভাবে দলের জন্য ভাবা যায়না। কিন্তু মইদুলের ভালবাসার কথা ভাবে কারা? ৫ সদস্যের পরিবার মইদুল মিদ্যার। ১০ আর ৫ বছরের দুই মেয়ে অপেক্ষা করছে বাবার। গোটা পাড়া অপেক্ষা করছে মিদ্যার, যে এতদিন পর্যন্ত রাত-বিরেত থেকে যেকোন সমস্যায় হেসে দাঁড়াতেন মানুষের পাশে। জল গড়িয়ে পড়ছে আলেয়া বিবির গাল দিয়ে, জানেন না বাকি ৩ জনকে নিয়ে কীভাবে দিন গুজরান করবেন। শুধু জানেন, “মমতার পুলিশই খুন করেছ তাঁর স্বামীকে।”







