ভবানীপুরে ভোটার তালিকা নিয়ে কড়া নজর মমতার, তিন ওয়ার্ডে বিশেষ সতর্কতার নির্দেশ—দৈনিক রিপোর্ট দেবেন ববি হাকিম

এসআইআর শেষ পর্বে ভবানীপুরের ৬৩, ৭২ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়তি নজরের নির্দেশ মমতার, ভোটার তালিকা নিয়ে দৈনিক রিপোর্ট দেবেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেড় মাসের ব্যবধানে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের বিএলএ-দের নিয়ে ফের বৈঠকে বসলেন তৃণমূলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্বে এসে ভবানীপুরের তিনটি ওয়ার্ডে ‘বাড়তি নজর’ দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে নিজের বাড়ির সংলগ্ন দফতরে হওয়া এই বৈঠকে মমতা জানিয়ে দেন—দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে কাজ করতে হবে, আর প্রতিদিনের স্ক্রুটিনির রিপোর্ট সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম–এর মাধ্যমে।

তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৈঠকে মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—৬৩ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই দুই ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অবাংলাভাষী হিন্দু ভোটার রয়েছেন, যেখানে বিজেপির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। গত লোকসভা নির্বাচনে এই দুই ওয়ার্ডে তৃণমূল বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল—সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই নাম যাচাই, বাড়ি-বাড়ি পৌঁছনো এবং তালিকা মিলিয়ে দেখার কাজে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত নয়—বার্তা পরিষ্কার।

একই সঙ্গে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা। বৈঠকে তাঁর আশঙ্কা—এই ওয়ার্ডে ভোটারদের নাম ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। উল্লেখ্য, এই ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা বেশি, যা তৃণমূলের জনসমর্থনের অন্যতম ভরকেন্দ্র। মমতার দাবি, খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বহু নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ চলছে। ফলে খসড়া ও চূড়ান্ত—দুই তালিকারই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রতিদিন তাঁর কাছে পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দৈনিক স্ক্রুটিনির রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতার মেয়রের কাছেই। মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর সংক্রান্ত প্রতিদিনের অগ্রগতি তিনিই তাঁকে রিপোর্ট করবেন। উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের পর ভারতের নির্বাচন কমিশন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে দেখা যায়—ভবানীপুর থেকে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যাদের বেশিরভাগই ‘মৃত’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত। সেই তালিকা প্রকাশের পর গত ডিসেম্বরে বিএলএ-দের নিয়ে বৈঠকে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন—‘আসল’ ভোটারদের নাম কেটে দিয়ে নকল নাম ঢোকানো হতে পারে। এসআইআরের শেষ ধাপে এসে ফের সেই সতর্কতাই জোরালো করলেন তিনি।

এই তৎপরতার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ভবানীপুরের ‘দায়িত্ব’ নিজের কাঁধে নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমীক্ষা করানো থেকে শুরু করে ধারাবাহিক কর্মসূচি—সবই চলছে কেন্দ্রে। সেই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলনেত্রীর সক্রিয়তা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভবানীপুরের নির্বাচনী অঙ্কও তৃণমূলকে সতর্ক করছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজয়ের পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে মমতা প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। তবে তার আগে ২০১৬ এবং ২০২১—এই দুই বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৫-৩০ হাজারের মধ্যেই। সেই কেন্দ্রে এসআইআরের প্রথম পর্বে ৪৫ হাজার নাম বাদ পড়ার তথ্য সামনে আসতেই দলীয় স্তরে বাড়তি সতর্কতা অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত