আমার ৫ ভাইকে গুলি করে মেরেছে…ষড়যন্ত্রী শাহ। উত্তরবঙ্গে বিস্ফোরক মমতা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমার ৫ ভাইকে মেরে দিয়ে বলছে গ্রামবাসীরা নাকি বন্দুক কাড়তে এসেছিল। লজ্জা করে না? গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বিজেপির। অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। এভাবেই বিজেপিকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। অমিত শাহকে নিশানা করে এদিন মমতা বলেন, উনি চক্রান্তকারী। আমি অনেকদিন ধরে বলছি সিআরপিএফকে দিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে। আমি সিআরপিএফের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু তাঁদের দিয়ে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে, গ্রামে গ্রামে মেয়েদের উপর অত্যাচার হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ এখনও সরকার তাঁরই, সিদ্ধান্তও তাঁর! শিতলকুচী কাণ্ডে CID তদন্তের ঘোষণা মমতার

শিলিগুড়িতে পৌঁছেই এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের সামনে ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়া উচিত। ওরা বলছে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছে। মিথ্যে কথা। আসলে রাজনৈতিক নির্দেশেই এসব হচ্ছে। অঘোষিত ৩৫৬ চলছে। যদি আক্রমণ হয়েই থাকে। প্ররোচনা দেওয়া হয় তবে প্ররোচনার ছবি কই। এত মিডিয়া ছিল ওখানে কেউ কোনও ফুটেজ পেল না!’’

কেন্দ্রীয় বাহিনী তথা কমিশনের আত্মরক্ষার তত্বকে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো মানে কি? আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোকে কি কেউ পছন্দ করে? সমর্থন করে? যদি আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়ে থাকে তবে আমার প্রশ্ন কীসের থেকে আত্মরক্ষা? কেউ কি জখম হয়েছে? কারও কোথাও আঘাত লেগেছে। আমি তো শুনেছি ওখানে কয়েকটা ছেলে ছিল। তারা ছবি তুলেছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের ছবিগুলিও ডিলিট করিয়েছে।”

কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে এলাকায় ত্রাস স্মৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “সব জায়গায় ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ত্রাস সৃষ্টি করছে ওরা। মেয়েদেরও ছেড়ে কথা বলা হচ্ছে না। আমি আজ নয়, নন্দীগ্রামে ভোটের আগে থেকে এ-কথা বলে আসছি।” এদিন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরাকে হাতিয়ার করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর জনগনের হামলার ফুটেজ নেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আমার ৫ ভাইকে গুলি করে মেরেছে অভিযোগ করে মমতা বলেন,  ‘‘এত সাংবাদিক ছিলেন, এত চ্যানেল, এত প্যানেল, এত ক্যামেরা, তারা কেউ কোনও ছবি পেল না? এটা কখনও হতে পারে? যদি গ্রামবাসীরা ওদের আক্রমণই করত তার কোনও ছবি পাওয়া গেল না কেন? একটা মিথ্যে বানানো ঘটনা। এতগুলো মানুষকে মারার পর এখন আত্মরক্ষার দোহাই দিচ্ছেন! ভাবেন কি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? আমাদের এত দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। আর উত্তরবঙ্গ শান্ত জায়গা। সেখানে বার বার এভাবে আঘাত করার কোনও কারণ থাকতে পারে না।’’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত