নজরবন্দি ব্যুরো: আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। আর তারপরেই বাঙালি প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোর শুরু। আষাঢ় থেকেই শুরু আশ্বিনের অপেক্ষা। মা দুর্গাকে আমরা অনেক নামেই জানি, যেমন- চণ্ডিকা, যোগমায়া, অম্বিকা, মহামায়া ইত্যাদি। প্রতি বছর শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে মর্তে আসেন উমা তাঁর ৪ ছেলে মেয়েকে নিয়ে। আর এই আগমন নিয়েই শুরু হয় উত্তেজনা। ইতিমধ্যে তাদের আগমনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সন্ধিপুজোয় ১০৮ পদ্ম ও প্রদীপ দেওয়া হয়, জানেন কেন?


দুর্গাপুজোর তারিখ ছাড়াও বাঙালির কৌতূহল থাকে মা দুর্গা এই বছর কোন বাহনে চড়ে আসছেন, আর কোন বাহকে চড়ে শ্বশুরালয় কৈলাসে ফিরে যাচ্ছেন, তা নিয়ে। পঞ্জিকা মতে, মনে করা হয়, দেবী কীসে আসছেন, আর কীসে যাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে বাংলার পরিবেশ, প্রকৃতি, সময়কাল।
গজে আগমন- ২০২২ সালে দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে। অর্থাৎ হস্তিতে চড়ে মা দুর্গা পা রাখবেন মর্ত্যে। এমনই মত শাস্ত্রে। এই গজে চড়ে দেবীর আগমনের বেশ কিছু ফলাফল রয়েছে। গজে দেবীর আগমনের ফলে শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা দেখা যায়। দেবী দুর্গার গজে আগমনের ফলে চারিদিকে শস্যের উৎপাদন বেড়ে সুখ, সমৃদ্ধি, ও শুভ ফল আসতে থাকে। শাস্ত্রে এমনই ফলাফলের কথা রয়েছে বর্ণিত।

দেবীর গমন নৌকায়- ২০২২ সালের দুর্গাপুজোয় দেবীর গমন হবে নৌকায়। যার ফল খুব একটা শুভ নয়। ওরফলে শস্য বৃদ্ধি হলেও জল বৃদ্ধির ফলও রয়েছে। ফলে বন্যার আশঙ্কা থেকে যায়।


প্রতিটি যানে আগমন ও গমনের পিছনে রয়েছে কিছু শুভ ও অশুভ কারণ। শাস্ত্র মতে, গজে আগমন সবচেয়ে শুভ। গজের পিঠে চেপে মর্ত্যে আগমনের কারণে পৃথিবী সবুজে, সুখে ভরে যায় পৃথিবী। কিন্তু দোলায় আগমন হলে মর্তে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। দেখা যায় মহামারী। শুধু তাই নয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ও যুদ্ধের কারণেও মানুষের মৃত্যু হতে পারে। মোদ্দা কথা হল, দোলা হল মড়কের প্রতীক। অন্যদিকে দশমীর দিন বাপের বাড়ি থেকে ফিরবেন নৌকায় চড়ে। নৌকা হল বন্যার প্রতীক।
মা দুর্গা বাপের বাড়ি আসছেন হাতিতে, জানেন কি কৈলাসে যাচ্ছেন কিসে?

উল্লেখ্য যদি কোন বছর মায়ের আগমন আর গমন একই হয় তাদের কিন্তু সেটা অশুভ ফল দেয়। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে দেবীর আগমন এবং গমন হয়েছিল ঘোটকে। যার ফল স্বরূপ হিসাবেই ২০২০সালে করোনা অতিমারীর কবলে পড়েছেন বিশ্ববাসী। ২০২২ সালে দুর্গাপুজোর মহালয়া পড়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার। মহাপঞ্চমী শুরু হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। মহাষষ্ঠী পড়েছে ১ অক্টোবর। মহাসপ্তমী ২ অক্টোবর। মহাঅষ্টমী ৩ অক্টোবর। মহানবমী ৪ অক্টোবর। মহাদশমী ৫ অক্টোবর।







