ভোট-পরবর্তী অশান্তি ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। সেই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “হিংসা বন্ধ করতে না পারলে আমি রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেব।” একই সঙ্গে অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
বুধবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে বৈঠক করতে নবান্নে যান শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এই প্রথম নবান্নে তাঁর প্রবেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।


বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক বলেন, “ছবি দিন, নাম দিন। আমি ব্যবস্থা নেব। এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়।”
তাঁর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে তৃণমূলের লোকেরাই অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। শমীকের বক্তব্য, “যদি বিজেপির পতাকা নিয়ে তৃণমূলের লোকজন অত্যাচার করেন, তার দায় বিজেপি নেবে না। এখনও আমরা সরকার গঠন করিনি।”
একই সঙ্গে রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব বর্তায় প্রশাসন ও কমিশনের উপর।


এদিন দলীয় অবস্থান নিয়েও কড়া বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি। সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা কিছু নেতার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। প্রয়োজন হলে নব্য বিজেপিদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।”
শমীক আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিনের কর্মীদের ত্যাগ ও লড়াইয়ের ফলেই বাংলায় বিজেপির জয় এসেছে। তাঁর কথায়, “১৯৮০-৯০ সাল থেকে যাঁরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে দল করেছেন, তাঁদের জন্যই আজ এই জয়।”
অশান্তি রুখতে প্রয়োজনে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, বিজেপির দুই কর্মীর মৃত্যুর পরেও দল প্রতিশোধের পথে হাঁটতে চায় না।
এদিন তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৮ মে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির বিধায়কদলের বৈঠক হবে। আর ১০ মে সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
সব মিলিয়ে, ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া অবস্থান নিতে শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব— শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।







