ভোটে শোচনীয় ফলের পর তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা। বাইরে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়ী করার সুর শোনা গেলেও, দলের ভিতরে হারের কারণ নিয়ে বাড়ছে চাপানউতোর। সেই আবহেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, দলের কিছু নেতার ‘দাদাগিরি’ ও তোলাবাজিই মানুষের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
এক সাক্ষাৎকারে সৌগত রায় বলেন, “মানুষ আমাদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। বিশেষ করে স্থানীয় স্তরে জুলুম, দাদাগিরি ও তোলাবাজির অভিযোগ আমরা সামলাতে পারিনি।”


তাঁর মতে, শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতা নয়, ভোটের অঙ্কেও পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। সৌগতের দাবি, বিজেপি বুথস্তরে অত্যন্ত সংগঠিত ভাবে কাজ করেছে এবং সেই সংগঠনই ভোটে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
একই সঙ্গে হিন্দু মেরুকরণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “হিন্দু মেরুকরণ যে এতটা গভীর হবে, সেটা আমরা বুঝতে ভুল করেছি।”
দলের অন্দরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, তৃণমূলের গায়ে ‘সংখ্যালঘু ঘেঁষা’ ভাবমূর্তি তৈরি হওয়াও হিন্দু ভোটের বড় অংশ দূরে সরে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।


তবে ভোটের দিন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে কিছুটা আলাদা অবস্থান নিয়েছেন সৌগত রায়। যেখানে তৃণমূলের একাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে, সেখানে সৌগতের বক্তব্য অনেকটাই সংযত।
তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনীর কিছু বাড়াবাড়ি থাকলেও মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।” বিশেষ করে বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়াকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন তিনি।
এদিকে দলের পরাজয়ের পরও মমতা ব্যানার্জি এখনও হার মেনে নিতে নারাজ। পদত্যাগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সাংসদ-সহ ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল।
তবে এত সমালোচনার মাঝেও মমতার নেতৃত্বের উপর আস্থা হারাননি সৌগত রায়। তাঁর বিশ্বাস, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পোড়খাওয়া স্ট্রিট ফাইটার। লড়াই করে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াবেন।”
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের এই ভরাডুবির পর সৌগত রায়ের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দলের অন্দরের চাপা ক্ষোভ এবং আত্মসমালোচনার ছবি।







