জয়ের পর নন্দীগ্রামে কার্যত জনজোয়ারের মধ্যে ভাসলেন শুভেন্দু অধিকারী। চারদিক জুড়ে ‘শুভেন্দু জিন্দাবাদ’ স্লোগান, উচ্ছ্বসিত কর্মী-সমর্থকদের ভিড় আর পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মুখর সাধারণ মানুষ। সেই আবহেই সাংবাদিকদের সামনে বিজেপি সরকারের আগামী রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “আগামী এক বছরের মধ্যেই রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন।”
নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু জানান, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমেই তাদের ‘সংকল্পপত্র’-এ দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নে জোর দেবে। তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদীর গ্যারান্টি এবং অমিত শাহ ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বিজেপি দায়বদ্ধ।”


বিজেপির অগ্রাধিকার কী?
এদিন শুভেন্দু একে একে বিজেপি সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।
১. সংকল্পপত্র বাস্তবায়ন
ভোটের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিপত্র প্রকাশ করেছিল, তা সময়মতো পূরণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।
২. সীমান্ত সুরক্ষা
বাংলাকে ‘অনুপ্রবেশমুক্ত’ করার বার্তা ফের একবার তুলে ধরেন তিনি। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও বলেন।


৩. নারী সুরক্ষা
মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “মহিলারা যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন। রাতে বেরোতে ভয় পেতে হবে না।”
একই সঙ্গে আগের সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামী দিনের মুখ্যমন্ত্রী কখনও বলবেন না যে রাতে মেয়েরা বেরোবে না।”
৪. কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ
সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দেন বিজেপি নেতা। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি স্থায়ী কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত বেকার ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
‘সিন্ডিকেট রাজ’ শেষ করার বার্তা
শুভেন্দু জানান, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা, সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি বন্ধ করা বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য।
তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার বার্তা দিতে ভোলেননি তিনি। স্পষ্ট করে বলেন, “কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। আইন নিজেদের হাতে তুলে নেবেন না।”
সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তায় যেমন উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি উঠে এল, তেমনই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিজেপির প্রশাসনিক রূপরেখারও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল।







