রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেও সরিয়ে নেওয়া হল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বুধবার দুপুরে কলকাতার হরিশ মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটের ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশের অতিকায় স্ক্যানার। বিমানবন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে ব্যবহৃত সেই মানের স্ক্যানার নামাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় কর্মীদের। একই সঙ্গে তুলে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরা, ব্যারিকেড এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক সরকারি সরঞ্জামও।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কড়া নিরাপত্তা ছিল। মোতায়েন ছিল পুলিশবাহিনী, লাগানো ছিল গার্ডরেল। কিন্তু বুধবার দুপুরে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। বাড়ির সামনে থাকা অস্থায়ী পুলিশ বুথ কার্যত ফাঁকা দেখা যায়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও আর চোখে পড়েনি।


সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাড়ির ভিতর থেকে বের করে আনা বিশাল স্ক্যানারটি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের স্ক্যানার সাধারণত বিমানবন্দর, রেলস্টেশন বা উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন সরকারি ভবনে ব্যবহার করা হয়। সেটিকে মোটা দড়ি বেঁধে নীচে নামাতে দেখা যায় কর্মীদের।
যদিও পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়নি এলাকা। স্থানীয় থানার এক পুলিশকর্মীকে রাউন্ড দিতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি একটি কুইক রেসপন্স টিমের গাড়িও কিছু সময়ের জন্য এলাকায় ছিল।
শুধু শান্তিনিকেতনই নয়, মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাড়ি ও দফতরের সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থাকা সিজ়র ব্যারিকেড খুলে ফেলা হয়। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের সামনের বিশেষ নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছে।


লালবাজার সূত্রে খবর, বিদায়ী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য দেওয়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য এই পরিবর্তনে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দার কথায়, “আগে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটাই যেত না। নিরাপত্তার কারণে সব সময় বাধা থাকত। এখন অন্তত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরছে।”
আরও কয়েকজনের দাবি, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে মাঝেমধ্যেই রাস্তা আটকে দেওয়া হত, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ত। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক বলে তাঁদের মত।







