ভারত-পাকিস্তান ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও খেলাই হবে না, সেই নীতিতেই অনড় থাকছে কেন্দ্র। তবে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা অন্যান্য বহুজাতিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারতীয় দল। বুধবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের জারি করা এক সার্কুলারে এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন, ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে।


ক্রীড়ামন্ত্রকের বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ বন্ধই থাকবে। অর্থাৎ ক্রিকেট, হকি বা অন্য কোনও খেলায় আলাদা সিরিজ আয়োজন করা হবে না। একই সঙ্গে পাকিস্তানি দলকেও ভারতে এসে দ্বিপাক্ষিক প্রতিযোগিতা খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।
সার্কুলারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতীয় দল পাকিস্তানে যাবে না। একইভাবে পাকিস্তানি দলও ভারতে খেলতে আসবে না।”
তবে আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। ক্রীড়ামন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির নিয়ম এবং ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


অর্থাৎ অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস বা বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দল অংশ নেবে, সেখানে পাকিস্তান থাকলেও আপত্তি থাকবে না। একইভাবে ভারতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন নিরীহ ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেয় কেন্দ্র। তখনই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, “রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”
সেই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কড়া নীতি বজায় রাখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারত ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলতে বিদেশি ক্রীড়াবিদ, টেকনিক্যাল স্টাফ এবং প্রতিনিধিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করা হবে।
ক্রীড়ামন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্যবস্থায় ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।







