ভোটে পরাজয়ের পরেও অবস্থান বদলাল না তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক, রেকর্ড থাকুক।” একই সঙ্গে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু সেই ফল মেনে নিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আইনি লড়াই এখনও বাকি।


এদিন বৈঠকে মমতা বলেন, “আদালতে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলে আইনজীবী হিসেবে নানা মামলা দেখব।” উল্লেখ্য, অতীতেও বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আদালতে সওয়াল করেছেন।
তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার আইনি লড়াইয়ের পথেও এগোতে চাইছে দল।
দলের অন্দরে ভাঙন ও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ নিয়েও সরব হন মমতা। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে, তাদের নাম দিন।”


দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের ভরাডুবির পিছনে একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং গোপন অন্তর্ঘাতের ভূমিকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নেতৃত্বের মধ্যে। সেই কারণেই সংগঠন নিয়ে নতুন করে সতর্ক হতে চাইছেন মমতা।
তবে কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তিনি। তাঁর কথায়, “আমিও একসময় একা ছিলাম। লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দলও ঘুরে দাঁড়াবে।”
ভোট-পরবর্তী অশান্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবে দলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যেখানে অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না, সেখানে অনলাইনে অভিযোগ জানান।”
অভিষেক আরও জানান, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে নেতৃত্ব দেবেন, আর আমি সেনাপতির মতো তাঁর পাশে থাকব।”
এদিকে নতুন সরকারের শপথের দিন দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, কঠিন সময়েও কর্মীদের মানসিক ভাবে একত্র রাখার বার্তাই দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।







