অশান্ত বাংলায় শান্তি ফেরাতে রাস্তায় বিজেপি বিধায়করা, হামলা রুখতে পুলিশকেও কড়া বার্তা

বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানে অশান্তির আবহে মাঠে নামলেন বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা। আক্রান্ত পরিবারে গিয়ে ক্ষমা, পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়া অশান্তির আবহে এবার রাস্তায় নেমে শান্তির বার্তা দিলেন বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা। বীরভূম থেকে পূর্ব বর্ধমান— বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর, আগুন লাগানো এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলির উপর আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি মাঠে নামলেন বিজেপি নেতৃত্ব। কোথাও বিজেপির পতাকা নিজের হাতে খুলে দিলেন বিধায়ক, কোথাও আক্রান্ত সংখ্যালঘু পরিবারের কাছে গিয়ে হাতজোড় করে ক্ষমাও চাইলেন তাঁরা।

সিউড়িতে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও দলীয় পতাকা বদলে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ ওঠে মঙ্গলবার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সিউড়ির জয়ী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি দলীয় কর্মীদের দিয়ে বিজেপির পতাকা সরিয়ে দেন এবং স্পষ্ট বার্তা দেন, “কোনও পার্টি অফিস দখল আমরা সমর্থন করি না।”

ঘটনার পরই জেলার পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদবকে ফোন করে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান জগন্নাথ। তাঁর কথায়, “যেখানে এই ধরনের খবর পাব, সেখানেই যাব। অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”

শুধু দলীয় অফিস নয়, করমকাল গ্রামে এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলার অভিযোগের পর সেখানেও যান তিনি। আক্রান্ত পরিবারের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চান বিজেপি নেতা। যদিও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, ওই পরিবারের এক সদস্যের বিরুদ্ধে আগে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ছিল। তা সত্ত্বেও শান্তির বার্তা দিতেই এলাকায় যান জগন্নাথ।

অন্য দিকে, পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে সকাল থেকেই এলাকায় এলাকায় ঘুরে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেন জয়ী বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা। হ্যান্ডমাইক হাতে গাড়িতে চেপে সাহেবগঞ্জ, পানোয়া, এরুয়ার, নিত্যানন্দপুর-সহ একাধিক গ্রামে ঘোরেন তিনি। কোনও সমস্যা হলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানান।

সাহেবগঞ্জে তৃণমূলের পার্টি অফিসে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ উঠতেই নিজে গিয়ে সেই পতাকা খুলে দেন সৌমেন। তাঁর বক্তব্য, “রাজনীতির নামে নতুন করে বিভাজন চাই না। হিন্দু-মুসলিম, তৃণমূল, সিপিএম, বিজেপি— সবাই একসঙ্গে শান্তিতে থাকুক।”

মেমারিতেও একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপির জয়ী প্রার্থী মানব গুহর গলায়। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি পুলিশকে আরও কড়া হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, “যে-ই অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করুক, পুলিশ যেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়।”

সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে মানব বলেন, “আপনারা হয়তো আমাকে ভোট দেননি, কিন্তু আমি আপনাদেরও বিধায়ক। কোনও সমস্যা হলে সরাসরি জানাবেন।” পাশাপাশি কাটমানি বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

রাজ্যে সরকার বদলের পর রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই বিজেপির এই শান্তির বার্তাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত