নজরবন্দি ব্যুরো: “চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন…”। কিংবা “রাস্তা চলেছে যেন অজগর সাপ/ পিঠে তার ট্রামগাড়ি পড়ে ধুপধাপ” গান হোক বা কবিতার পংক্তি, শুরু থেকেই কলকাতার ট্রাম যেন আমাদের কাছে একধরনের আবেগ, ভালোবাসা। শহরের একাধিক পিচঢালা রাস্তায় এঁকে বেঁকে বেঁচে থাকা ট্রাম লাইন, ঠিক যেন নস্ট্যালজিয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরে এসেছে পরিবর্তন। গতি এসেছে, বেড়েছে যানবাহন। আর সেই ভিড়েই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই নস্ট্যালজিয়া।
আরও পড়ুন: Recruitment Case: নিয়োগ দুর্নীতিতে CBI-র জালে আরও এক, গ্রেফতার OMR প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্তা


তবে কলকাতার ট্রাম নিয়ে মানুষের আবেগ-ভালোবাসা তো থাকবেই। ঠিক যেমন রয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে ঘিরে। তাই এবার কলকাতায় ঢাকের শব্দের সঙ্গে মিলে গেছে ট্রামের ঘণ্টার শব্দ মেলাতে নয়া উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকারের পরিবহণ দফতর। জানা গিয়েছে, কলকাতার প্রাচীনতম যান-এর ১৫০ বছরে টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো-তে ৬০৮ নম্বর ট্রাম সেজে উঠেছে পুজোর রঙে। শুধু তাই নয়, পুজোর রঙে সেজে সগৌরবে কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এই ট্রাম।

জানা গিয়েছে, উৎসবের মরশুমে নয়া উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য পরিবহন নিগম। রাজপথে পুজোর থিমে সুসজ্জিত ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য পরিবহন নিগম সূত্রে খবর, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর দিন সকাল ১০টায় এসপ্ল্যানেড ট্রাম ডিপো থেকে রওনা দেবে এই ট্রাম। এরপরে উত্তর-দক্ষিণ অর্থাৎ কলকাতার শহরের বিভিন্ন বিখ্যাত পুজোমণ্ডপ ঘুরে আবারও এসপ্ল্যানেডে ফিরবে ট্রামটি। এই বিশেষ পরিষেবাটির ভাড়া জন প্রতি ৬০০ টাকা। টিকিট বুকিং করার জন্য অনলাইন এবং অফলাইন দুটোই সুবিধা সাধারন মানুষ পাবে। আর এই ধরনের পরিষেবা কলকাতা সহ শহরতলীর বাসিন্দাদের কাছে ট্রামকে নতুনভাবে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে মনে করেন পরিবহনকর্মীরা।



প্রসঙ্গত, ১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ট্রাম পরিবহন শুরু হয়। তখন সেই সময় ছিল ঘোড়ায় টানা ট্রাম। তবে ৩.৯ কিলোমিটারের ট্রামের এই প্রথম পথ বন্ধ হয়ে যায় মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই। এরপরে আসে বাষ্পচালিত ট্রাম। অবশেষে বিংশ শতাব্দীর প্রথম লগ্নেই কলকাতার রাজপথে পথ চলা শুরু হয় ইলেকট্রিক ট্রাম।
‘চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন’, রাজপথে পুজোর থিমে সুসজ্জিত ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার








