দীর্ঘদিনের নিয়োগ দুর্নীতি, বঞ্চনা আর আন্দোলনের ক্ষোভ এবার ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত—এমনটাই মনে করছেন বহু চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী। রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন তাঁরা, তবে প্রশ্ন একটাই—এবার কি সত্যিই ফিরবে হারানো চাকরি?
গত দেড় দশক ধরে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অভিযোগ এবং মামলা দেখেছে রাজ্য। অভিযোগ উঠেছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির। সেই জটিলতায় পড়ে বহু ‘যোগ্য’ প্রার্থী চাকরি হারিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও এখনও অনেকের ক্ষেত্রে সমাধান অধরাই রয়ে গিয়েছে।


চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, এই দুর্নীতিই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের কথায়, “যে অন্যায় আমাদের সঙ্গে হয়েছে, মানুষ তার জবাব দিয়েছে।”
প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। নতুন সরকার আসার পর তাঁদের মধ্যে প্রত্যাশা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই রয়েছে ক্ষোভও। কারণ, দীর্ঘ আন্দোলন সত্ত্বেও এখনও অনেকেই ন্যায়বিচার পাননি।
২০১৮ সালের প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ এক চাকরিপ্রার্থী জানান, “হাজার দিনের আন্দোলন করেছি। রাস্তায় থেকেছি, পুলিশের অত্যাচার সহ্য করেছি। তবু চাকরি পাইনি। উলটে আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনে নামলেই গ্রেফতারি, মারধর—সবই সহ্য করতে হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের।


উচ্চ প্রাথমিকের আর এক প্রার্থীর বক্তব্য, “পুরো ব্যবস্থাটাই যখন দুর্নীতিগ্রস্ত, তখন আন্দোলন করেও কী লাভ? গত ১৫ বছরে হাতে গোনা কয়েকবার পরীক্ষা হয়েছে, কিন্তু নিয়োগ হয়নি।”
অন্যদিকে, গত এক বছর ধরে অনেক শিক্ষাকর্মীর বেতনও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে তাঁদের জীবনে।
এখন নজর নতুন সরকারের দিকে। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কি স্বচ্ছ হবে? বন্ধ হয়ে থাকা নিয়োগের দরজা কি খুলবে? দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হবে কি?—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকা।







