আগামী ২৬ জানুয়ারি অযোধ্যায় একটি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: আগামী ২৬ জানুয়ারি অযোধ্যায় একটি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অযোধ্যায় তৈরি হবে ঐতিহাসিক রাম মন্দির। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই হবে রাম মন্দির তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এরই মাঝে শোনা যাচ্ছে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন অযোধ্যায় একটি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে।

আরও পড়ুন: মমতাকে চিঠি দিয়ে দল ছাড়লেন শুভেন্দু।

সূত্রের খবর, এদিনই সরকারের নির্ধারিত পাঁচ একর জমিতে শিলান্যাস করা হবে নতুন মসজিদের। প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দশক ধরে টালবাহানার পর অবশেষে সুপ্রিম রায়ে অযোধ্যার ‘বিতর্কিত’ জমিতেই তৈরি হচ্ছে রাম মন্দির। এর আগে এখানেই ছিল বাবরি মসজিদ। এরপর শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই অযোধ্যার রৌনহী গ্রামে নতুন করে মজসিদ তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি বেছে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড  ছ’মাস আগে মসজিদ গঠনের জন্য ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন তৈরি করেছে। ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আখতার হুসেন জানিয়েছেন যে, ”অযোধ্যা মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের জন্য ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ সাত দশক আগে এই দিনেই আমাদের দেশের সংবিধান কার্যকর করা হয়েছিল। সংবিধান বহুত্ববাদের উপর ভিত্তি করে তৈরি, আমাদের মসজিদও সেই আদর্শের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হবে।”

মসজিদ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান, আগামী ১৯ ডিসেম্বর পাঁচ একর জমির উপর মসজিদের নকশা প্রকাশ করা হবে। মসজিদ চত্বরেই তৈরি হবে একটি মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল, কমিউনিটি কিচেন  ও গ্রন্থাগার ।

শোনা যাচ্ছে, গোলাকৃতির এই নতুন মসজিদে একসঙ্গে প্রায় দু’হাজার মানুষ নমাজ পড়তে পারবেন। এ বিষয়ে আখতারবাবু বলেন, ”বাবরি মসজিদের মতো দেখতে না হলেও, তার থেকে আকারে বড় হবে এই নতুন মসজিদ। চত্বরের ঠিক মাঝখানে তৈরি করা হবে হাসপাতাল। ১৪০০ বছর আগে ইসলামে যে মানব সেবার কথা বলা হয়েছিল, তা অনুসরণ করেই সেবাকার্য করা হবে।”

এছাড়া হাসপাতালের গঠন সম্পর্কে তিনি আরও জানান, গতানুগতিক নয়, বরং মসজিদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই হাসপাতালের নকশা তৈরি করা হবে। দেওয়ালে নানা ইসলামিক চিহ্ন ও নকশা করা হরফ থাকবে। ৩০০ শয্যার এই স্পেশালিটি হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন,”ধান্নিপুরে একটি হাসপাতাল তৈরির কথা চলছে। সেটিও মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল হবে। এছাড়াও আমরা নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করতে পারি চিকিৎসায় সাহায্যের জন্য। এই হাসপাতালের জন্য ফৈজাবাদ থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা হবে। এছাড়াও জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমাদের এই কমিউনিটি কিচেন পার্শ্ববর্তী এলাকার গরিব মানুষদের দু’বেলা খাদ্য জোগানোর কাজ করবে।”

এদিকে এসব তৈরি করার জন্য দরকার বিপুল আর্থিক সাহায্য। সেই বিষয়ে তিনি বলেন,”আমরা কর্পোরেট সাহায্যের বিষয়ে প্রত্যাশ্যা করছি। ৮০ জি (আকর আইনে) অনুমোদন মিললে বহু মানুষ আমাদের আর্থিক সাহায্য করবে। এরপর আমরা এফসিআরএ-তে আবেদন জানিয়ে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় মুসলিমদের থেকেও সাহায্যের আবেদন জানাতে পারি।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত