‘প্রথম শত্রু বিজেপি’, বাম-অতিবামদের একজোট হওয়ার ডাক মমতার

রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম-অতিবামদেরও পাশে চাইলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বাড়িতে আয়োজিত রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি ঘোষণা করলেন, “প্রথম শত্রু বিজেপি।” আর সেই লড়াইয়ে বাম, অতিবাম থেকে শুরু করে সব বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে আসার আবেদন জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবারের অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন, যদি বলেন বামেরা— আমার কোনও ইগো নেই। বাম থেকে অতিবাম সবাইকে নিয়ে বাংলায় জোট বাঁধি। দিল্লিতে লড়াই করছি, এখানেও করব।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত সত্ত্বেও এবার প্রথমবার প্রকাশ্যে বামেদের সঙ্গে যৌথ লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বিজেপি-বিরোধী ছাত্র সংগঠন, এনজিও, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান মমতা। যদিও ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তাঁদের অনেক স্বার্থ জড়িয়ে থাকে।”

রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও এ দিন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠান বানচাল করতে ডেকোরেটারদের চাপ দেওয়া হয়েছিল যাতে কেউ সহযোগিতা না করেন। মমতার কথায়, “সকালে দু’টো চৌকি কিনেছি, নিজেরাই মাইক-চেয়ার করেছি। সব ব্যবস্থা নিজেরা করেছি।”

ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগামছাড়া সন্ত্রাস চলছে এবং পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। নিজের সরকারের সময়ের উদাহরণ টেনে মমতা বলেন, “২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে কাউকে অত্যাচার করতে দিইনি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি পাঠিয়েছিলাম, Z+ নিরাপত্তাও দিয়েছিলাম।”

এ দিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনও পূর্বসূচনা ছাড়াই তাঁর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “তুলে নিক, আমি তো চাই না। কিন্তু আগে জানাতে পারত।”

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “যাঁর ইচ্ছে হবে, নীতিগত ভাবে তাঁরা একত্রিত হবে— এটা আমি বিশ্বাস করি। যাঁরা যেতে চান, তাঁদের যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি। যাঁরা থাকতে চান, তাঁদের আবেদন জানাচ্ছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে একদিকে যেমন বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর মঞ্চ তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে দল ভাঙন এবং কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টাও স্পষ্ট। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের রাজনৈতিক রণকৌশল কোন পথে এগোবে, মমতার এই বার্তা তারই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন