একুশের বিধানসভার আগে তাঁকেই টিমের ক্যাপ্টেন বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় আলিমুদ্দিন। অন্তত যে কয়েকজন তরুণ মুখ বামেদের উঠে আসছিলেন তাঁদের দিশা দেখাবেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সেরকমই ছিল ট্যাগলাইন। তাঁকে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থীও করে সিপিআইএম। যদিও সাফল্য আসেনি। এবারের লোকসভাতেও দেখা যাচ্ছে, মীনাক্ষীর নিজের বুথ থেকে সর্বসাকুল্যে ৪৬ ভোট পেয়েছে বামেরা। তাহলে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের দ্বারা কতটা নবজাগরণ সম্ভব হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন: অন্তর্দন্দ্ব সামলে ব্যাপক লড়াই দিয়েছেন লোকসভা ভোটে, মন্ত্রীত্বে পদোন্নতি বিপ্লব উদয়নের!


কুলটি বিধানসভার চলবলপুর গ্রামের বাসিন্দা মীনাক্ষী। সেখানেরই চলবলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর বুথে এবার ভোট দিয়েছিলেন তিনি। এবার কমিশনের তথ্য বলছে, সেই বুথেই বিজেপি ভোট পেয়েছে ৩৪৮টি, তৃণমূল পেয়েছে ২৩৬টি ভোট। আর কংগ্রেস সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী জাহানারা খানের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৪৬টি ভোট! তাহলে, নিজের এলাকার মানুষকেই প্রভাবিত করতে ব্যর্থ মীনাক্ষী? প্রশ্নটা উঠছে।

এবারের লোকসভায় সাড়া জাগিয়েও সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে বামফ্রন্ট। ৩০ আসনে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েও জামানত জব্দ হয়েছে ২৮ জন প্রার্থীর। যাদবপুরের সৃজন ভট্টাচার্য্য, শ্রীরামপুরের দীপ্সিতা ধর থেকে শুরু করে তমলুকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কেবল দুই বর্ষীয়ান নেতা মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তীর জামানত রক্ষা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের রাণিনগর, কেবল একটি বিধানসভায় লিড পেয়েছে বামেরা।


দিশা দেখাতে পারলেন ক্যাপ্টেন? মীনাক্ষীর বুথে CPIM পেল সর্বসাকুল্যে ৪৬ ভোট!

আর মাত্র বছর দুয়েকের অপেক্ষা। তার পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। সেখানে বামেরা নিজেদের হারের কারণ খুঁজতেই শুরু করেনি এখনও। যদিও ব্রিগেড থেকে শুরু করে মিটিং, মিছিলে লাল ঝাণ্ডায় শহর ছাপিয়ে যেতে দেখেছে নগরবাসী। তাহলে ভোটব্যাঙ্কে তার প্রভাব নেই কেন? তরুণ প্রার্থীদের মধ্যেও মীনাক্ষী কিছুটা সিনিয়র। কিন্তু, নিজের এলাকায় তাঁর জনসংযোগ কতটা রয়েছে তা কিন্তু প্রমাণ হয়ে গেল এবারের লোকসভায়।







