নজরবন্দি ব্যুরো: ওড়িশার বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনা গোটা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল তার তলানি খুড়িয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এবার করমণ্ডল বিপর্যয়ে এক নয়া মোড়। প্রাথমিকভাবে স্বয়ংক্রিয় সংকেত ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি হলে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। মনে করা হচ্ছে, স্বয়ংক্রিয় সংকেত ব্যবস্থাটিকে ম্যানুয়ালি বাইপাস করা হয়েছিল। তাহলে কি এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে মানুষের হাত রয়েছে? এই প্রশ্নই এবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীরা তৃণমূলের কর্মচারী! মনোনয়ন ইস্যুতে বিস্ফোরক শুভেন্দু


সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের সন্দেহ, নিকটবর্তী একটি রেল এবং সড়কপথের ইন্টারসেকশনে সড়কপথের যানবাহন চলাচল বন্ধ করার যে গেট থাকে সেটিতেই ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেই ত্রুটি দূর করতেই সিগন্যালিং ব্যবস্থা ম্যানুয়ালি বদল করেছিলেন রেলকর্মীরা। দুর্ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই নিকটবর্তী ওই রেলগেটটিতে ত্রুটি দেখা গিয়েছিল। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থাটিকে ম্যানুয়ালি বাইপাস করার সঙ্গে এর যোগ রয়েছে বলে মনে করছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা কমিশনের তদন্তকারীরা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় সংকেত অবস্থায় কোনও মানুষের হাত রয়েছে। যে কারণে করমণ্ডল এক্সপ্রেস লুপ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে কেন ম্যানুয়ালি বাইপাস করা হল, কারা করেছিল, এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সিআরএস। যদিও তদন্তকারীরা এনিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আনেনি।



গত ২ জুন ওড়িশার বালেশ্বরে করমণ্ডল এক্সপ্রেস, যশবন্তপুর এক্সপ্রেস এবং একটি মালগাড়ির সংঘর্ষ হয়। করমণ্ডলের ২১ টি কামরা, যশবন্তপুরের ৩ টি কামরা লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ২৮৮ জন। আহতের সংখ্যাও হাজারের কাছাকাছি। রেলবোর্ডের সুপারিশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এই দুর্ঘটনার তদন্তভার নেয়। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিবিআইয়ের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাহানগা বাজার রেল স্টেশনে কোনও ট্রেন দাঁড়াবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক।
Coromandel বিপর্যয়ের তদন্তে নয়া মোড়! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য








