প্রথম দফার ভোটের পরই সামনে এল ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ। বহু আবেদন সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হচ্ছে ধীরগতিতে—এই দাবি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবীরা। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল, এই বিষয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির কাছেই যেতে হবে।
শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর বেঞ্চ। আদালতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জী অভিযোগ করেন, প্রায় ২৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৩৬টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই ধীরগতির ফলে বহু ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “এ ধরনের প্রশাসনিক বা বিচারিক জটিলতার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়াই উপযুক্ত পথ।” অর্থাৎ, ট্রাইব্যুনালের কাজের গতি বা প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি হাইকোর্ট স্তরেই হওয়া উচিত বলে মত শীর্ষ আদালতের।
শুনানির সময় প্রথম দফার ভোট নিয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতা জানান, ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদান “ঐতিহাসিক”। একইসঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন বিচারপতিরা। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “এত শান্তিপূর্ণ ভোট বিরল”—যা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারই প্রতিফলন।
এদিকে মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ড নিয়েও আদালতে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্তে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা। সেই আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত চার্জশিট পেশের জন্য বাড়তি সময় দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্টই। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত সেই ট্রাইব্যুনালেই চলছে শুনানি। তবে কাজের গতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল এদিনের শুনানিতে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে আইনি লড়াইও এখন তীব্র। ট্রাইব্যুনালের ধীরগতির অভিযোগের পর বল এখন গড়াচ্ছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কোর্টে।



