ভোটের আবহে নতুন করে বিতর্ক ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’-এর অভিযোগ তুলে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হল শাসকদল। অভিযোগের জেরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আইপিএস আধিকারিক পরমার স্মিথ পরসোত্তমদাস, যিনি নির্বাচন কমিশনের তরফে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, তিনি মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের একটি পর্যটন লজে গোপন বৈঠক করেছেন।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরই কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতায় এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষককে আদালতে টেনে আনা হবে। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নিল শাসকদল।
তৃণমূলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আইপিএস আধিকারিক নির্ধারিত সরকারি আবাসন ছেড়ে নিয়ম ভেঙে ওই লজে অবস্থান করেন এবং সেখানেই বৈঠকটি হয়। তাদের দাবি, এই বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজও তাদের হাতে রয়েছে, যা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
শাসকদলের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই জায়গায় কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ প্রশাসনিক আচরণবিধির পরিপন্থী এবং তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এর আগে একই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার। তাঁর দাবি ছিল, পর্যবেক্ষকদের মৌখিক নির্দেশে বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আইনসঙ্গত নয়।
এই প্রেক্ষাপটে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনী পরিস্থিতির দিশা।



