প্রত্যেক দিন তৃণমূলকে জ্বালাচ্ছে বিজেপি, শহিদ দিবসের মঞ্চে বিরক্ত মমতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রত্যেক দিন তৃণমূলকে জ্বালাচ্ছে বিজেপি, ফোন ট্যাপ করছে, গালি-গুলির পলিটিক্স করছে, দেশ জুড়ে চালাচ্ছে অরাকজকতা। ২১ এর শহিদ দিবসের মঞ্চে উঠে লাগাতার কেন্দ্রকে কটাক্ষ করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ভোট থেকে কোভিড ব্যার্থতা, যোগী রাজ্যের সিলেবাস থেকে রবীন্দ্রনাথ বাদ যাওয়া থেকে পেগাসাস সব নিয়েই একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ মমতার মুখে বুদ্ধ-বানী…২৪ এর আগে লক্ষ্য ‘উন্নততর তৃণমূল’ তৈরি

২১ এ জুলাই নিয়ে সারাবছরের উন্মাদনা থাকে গোটা দলের। ১৩ জন শহিদের শ্রদ্ধায় এই দিন পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধান বক্তা থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারেও অন্যথা হয়নি তার। তবে কোভিডের কারণে এবারে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখছেন মমতা। কালীঘাটে কয়েকজন দলের সামনের সারির  নেতা-মন্ত্রিদের উপস্থিতিতে হচ্ছে অনুষ্ঠান। দেশ জুড়ে সম্প্রচারিত হবে মমতা কথা। প্রথম বার দিল্লিতে শোনা যাবে তাঁর কথা। একই সঙ্গে একাধিক রাজ্যেও। তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এসে কোন বিজয় উৎসব করেনি দল। তাই অধিক উন্মাদনা ছিলই ২১ নিয়ে।

প্রত্যেক দিন তৃণমূলকে জ্বালাচ্ছে বিজেপি, সহ্যের সীমা পেরোচ্ছে মমতার। 

মঞ্চে উঠেই সকলকে জয়ের জন্য, পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন পেগাসাস নিয়ে। সমগ্র ভাষণে কথায় কথায় উঠে এসেছে কল ফোন রেকর্ডিং এর কথা। বারবার তিনি জানিইয়েছেন এভাবে নিজেদের ব্যাক্তইইগত কথা বার্তা ফাঁস হচ্ছে দেশ জুড়ে। সেই কারণে নিজের টোটকাও দিয়েছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য তাই নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা সেলোটেপ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

তার পরেই নানা ক্ষেত্রে দেশের সব অ-বিজেপি দলের নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে বলেন গেরুয়া শিবির বরাবর সকলকে বিরক্ত করে। নিজেদের কাজ করার জন্য অন্যদের জ্বালিয়ে মারে। মমতা বলেছেন, এই আড়ি পাতা ভুলবেন না। এই পেগাসাস-কাণ্ডকে থিতিয়ে যেতে দেবেন না শরদজি, চিদম্বরমজি। আপনাদের কিন্তু ছেড়ে দেয়নি। আড়ি পেতে নির্বাচন জিতছে। ভাবছে সারা জীবন এ ভাবেই ভোট পাবে।

প্রত্যেক দিন তৃণমূলকে জ্বালাচ্ছে বিজেপি, তবে গেরুয়া শিবিরের এই চক্রান্ত বাংলা ভেঙে দেবে বলেও বিশ্বাস রেখেছেন তিনি। আজ মঞ্চে থেকে আত্মবিশ্বাস মিয়েই তিনি বলেন মনে রাখবেন, আমরা হারব না, আমরা ভয় পাব না, মাথা নত করব না। আমরা, করব, লড়ব, জিতব। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপি নেতা মন্ত্রীদের কটাক্ষ করে বলেন,  অনেক গদ্দার আছে, যারা বড় বড় কথা বলছে।

ফোন ট্যাপিংয়ের কথাও বলছে। এদের মানুষ রাজনৈতিক ভাবে বিদায় দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। বিজেপি-তে গদ্দারদেরই জন্ম হয়। ভাল মানুষের নয়। ওরা দেশটাকে জানে না, মানুষকে চেনে না। মুখ বন্ধ করে দেওয়ার রাজনীতি করে। এই রাজনীতি আমার মোটে পছন্দ নয়।

সঙ্গে প্রতিবারের মত নিজের বাংলার মা বোনেদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার সঙ্গেই গেরুয়া শিবির, গুজরাট সকলের সঙ্গে প্রসঙ্গ তুলে এনে বলেন এই মুহুর্তে মডেল হোক বাংলা, আমাদের কন্যাশ্রী রাষ্ট্রপুঞ্জে পুরস্কৃত হয়েছে। কৃষকদের আমরা ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছি। কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিই আমরা। জমির মিউটেশন আমরা করে দিই। গুজরাট নয়, বাংলাই দেশের মডেল।

একই সঙ্গে তৃতীয় ফ্রন্টের ডাক দিয়ে মঞ্চ থেকেই তিনি জানান, ‘সব রাজ্যের সব নেতাদের বলছি, আপনারা একজোট হয়ে ফ্রন্ট তৈরি করুন। এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন, রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসক ডেকে কোনও লাভ নেই।’ নিজে প্রস্তুত তাও জানিয়েছেন আজ।  তিনি জানান,  স্বাধীনতা আন্দোলন হোক বা যে কোনও লড়াই, লড়তে প্রস্তুত বাংলা। সব রাজ্যকে বলব, একজোট হয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন। জোট গড়ে তুলুন। এটাই ঠিক সময়। যত দেরি করবেন, ততই সময় নষ্ট হবে।

আমি দিল্লি যাচ্ছি। শরদজি, চিদম্বরমে বলব বৈঠক ডাকলে আমরা যাব সকল কর্মীদের ওয়ার্ম আপ করতে ,মঞ্চ থেকেই বার্তা দেন খেলা হওয়ার। দলনেত্রী জানান, ‘থেমে গেলে হবে না। খেলা হবে। খেলা একটা হয়েছে, খেলা আবার হবে।’

 

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর