অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): দূর্নীতি মুক্ত বাংলা এবং বিজেপি। জনগনের কল্যান বা দলীয় আদর্শের চেয়ে বর্তমান রাজনীতিতে প্রাধান্য পাচ্ছে সুবিধাবাদ। আদর্শ? বালাই ষাট! যাই হোক রাজ্য রাজনীতিতে এই দলবদল অর্থাৎ আয়ারাম গয়ারাম রাজনীতির শুরু হয় কমবেশি ২০১০ সাল থেকে যা এখন বাঙালির মাছ ভাত খাওয়ার মতই হয়ে গেছে। এরাজ্যে দাপট বেড়েছে বিজেপি-র। ১৯ নির্বাচনে ১৮ টি আসন লাভ করে বিজেপি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বিধানসভায় ক্ষমতা লাভের। যদিও ১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর কিছুটা ঝিমিয়ে গিয়েছে বিজেপি। তবুও বাম বা কংগ্রেসের তুলনায় জনসমর্থনে যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুনঃ সমকাজে সমবেতন পাবেন আংশিক সময়ের শিক্ষকরা।
অন্যদিকে ২০১৯ সাল থেকেই গেরুয়া স্রোতে গা ভাসাতে ব্যাস্ত তৃণমূল নেতাদের একটা বড় অংশ, সৌজন্যে অবশ্যই প্রাক্তন তৃণমূল তথা বর্তমান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। যদিও নিজের জন্যে বড় কোন পদ এখনও পাননি তিনি। বরং মান অভিমানের পালা শেষে ছেলে শুভ্রাংশু কে বিজেপি রাজ্য কমিটিতে ঢোকাতে সমর্থ হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে তিনি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি ‘হতেও পারেন!’ কিন্তু তা কবে কেউ জানেনা।
দূর্নীতি মুক্ত বাংলা এবং বিজেপি। এদিকে মুকুলের হাত ধরে একের পর এক তৃনমূল নেতা গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে চাপিয়েছেন। যার মধ্যে শঙ্কু পাণ্ডা থেকে শুরু করে শোভন, সব্যসাচী, নিশীথ প্রামাণিক, মনিরুল, অনুপম হাজরা, অর্জুন সিং বা সৌমিত্র খাঁ উল্লেখযোগ্য। অবস্থা এমন একটা যায়গায় পৌঁছে গেছে যে বিজেপি কর্মীরা মনের সুখে কোন তৃণমূল নেতাকেই গালমন্দ করতে পারছেন না! চিন্তা একটাই কখন কে জামা বদলে তাঁদের দলের নেতা হয়ে যান!
এই পরিস্থিতিতে শোভন চট্টোপাধ্যায় কে নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। বিজেপি তে যোগ দিলেও অ্যাকটিভ কখনই হন নি তিনি। চুপচাপ বসে থাকা শোভন কে মাত্র দুদিন আগে রাজ্য কমিটিতে স্থান দিয়েছে বিজেপি। এরপর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শোভন চট্টোপাধ্যায় কে না জানিয়েই নাকি রাজ্য কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যাই হোক আজ সেই মান অভিমানের পালা শেষ হয়েছে। বাংলা কে দূর্নীতিমুক্ত করার জন্যে বিজেপি শোভনের বান্ধবী বৈশাখী ব্যানার্জীকেও রাজ্য কমিটিতে স্থান দিচ্ছে গেরুয়া ব্রিগেড।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এখানেই, তৃণমূল কে সরিয়ে দূর্নীতি মুক্ত বাংলা গড়ার পন করেছে বিজেপি। সেই বিজেপি-র প্রথম সারির মুখ কারা? মুকুল রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং, মনিরুল ইসলাম, শঙ্কুদেব পাণ্ডা ইত্যাদি ইত্যাদি… বাকিটা বিশ্লেষণ করার কোন কারন আছে বলে অন্তত আমি মনে করিনা।
অন্যদিকে লোকসভার অঙ্কে বিজেপি ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যের ১৪০ টি আসনে এগিয়ে থাকলেও ম্যাজিক ক্রশ করা যে সহজ হবে না তা বুঝিয়ে দিলেছে কিছুদিন আগের দিল্লি নির্বাচন। দিল্লিতে লোকসভার সব আসনে জয় পেয়ে এবং ৭০ আসনের বিধানসভায় ৬৫ আসনে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮টি আসন পেয়ে দিল্লি বিধানসভায় থেমে গেছে বিজেপি-র বিজয়রথ। বিজেপি-র প্রচারে কখনই প্রাধান্য পায়নি কর্মসংস্থান, স্বনির্ভরতা বা উন্নয়নের ইস্যু।
সর্বদাই বিজেপি-র প্রচার কৌশল নির্ভর করে দেশপ্রেমের জিগির, পাকিস্তান, দেশদ্রোহী ইস্যুর। কমবেশি সব বিজেপি নেতাই বোঝানোর চেষ্টা করেন তাঁরা দেশপ্রেমিক আর বিজেপি বিরোধীরা দেশদ্রোহী! এখানেই বাংলা একটু অন্যরকম। দিল্লীর মত ঘটনা এখানেও যে ঘটবে না তা বলা যায়না। লোকসভায় গোটা ভারতের ব্র্যাণ্ড ছিলেন মোদী। দিল্লী নির্বাচনে সেখানকার ব্র্যান্ড ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তেমনি বাংলার ক্ষেত্রে মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাই বিজেপি অসাধারন রেজাল্ট করবে তা ভাবা অনেকটা স্বপ্ন দেখার মতই।
অন্যদিকে বামেদের সাথে জোট হবে কংগ্রেসের। অধীর চৌধুরীর পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু আর বামেদের নাগরিক রান্নাঘর নিশ্চিত ভাবেই কিছুটা এফেক্ট ফেলবে ভোটে। বলাই বাহুল্য তৃণমূল ভেঙে বামপক্ষে বা কংগ্রেসে ভোট পড়বে তা ভাবাই অন্যায়। কারন ১৯ লোকসভায় বিজেপি ১৮ টি আসন পেলেও ভোট শতাংশ বেড়েছে তৃণমূলের। কিন্তু বিজেপিতে চলে যাওয়া বাম ভোট কিছুটা হলেও ফিরবে তা মুকুল বাবু বা দিলীপ ঘোষরা ভালই যানেন। তাই সহজ সমীকরণ বলছে বাম-কংগ্রেসের ভোট যত বাড়বে তৃণমূলের আসন তত বাড়বে।



