নজরবন্দি ব্যুরোঃ সমকাজে সমবেতন পাবেন আংশিক সময়ের শিক্ষকরা। সমান কাজে সমান বেতনের দাবিকে মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকার কে এই নির্দেশ দিয়েছে। বর্ধমান জেলার খানদ্রা হাইস্কুলের আংশিক সময়ের শিক্ষক অনির্বাণ ঘোষ এবং একই জেলার বিটরা হাইস্কুলের আংশিক সময়ের শিক্ষক বরুণকুমার ঘোষ সম কাজে সম বেতনের দাবিতে মামলা করেছিলেন কোলকাতা হাইকোর্টে।
আরও পড়ুনঃ পুজো নিয়ে ফেক পোস্ট। মূল অভিযুক্ত কে গ্রেফতার করল পুলিশ।
সেই মামলায় বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ আজ নির্দেশ দিয়েছে, স্থায়ী শিক্ষকদের মতোই বর্ধমানের আংশিক সময়ের দুই শিক্ষককে বেতন দিতে হবে। বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বেসিক পে অর্থাৎ মূল বেতন তো দিতে হবে। সাথ মূল বেতনের যাবতীয় বকেয়া হাইকোর্টের নির্দেশের ৪ সপ্তাহের মধ্যে মেটাতে হবে রাজ্য সরকার কে।
এই রায়ের ফলে রাজ্যের সমস্ত আংশিক সময়ের শিক্ষকদের জন্যে দিগন্ত খুলে গেল। মামলাকারীদের আইনজীবীরা জানান, বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের ফলে রাজ্যের বাকি আংশিক সময়ের শিক্ষকদের মূল বেতনও স্থায়ী শিক্ষকদের সমান হতে চলেছে। তাঁরা আরও বলেন, ২০১৯ সালে এই মামলায় সমকাজে সমবেতন দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে অ্যাপিল করে রাজ্য সরকার।
বিচারপতির সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর বলেন, নাগরিক শিক্ষত হলে তবেই দেশ বা রাষ্ট্র উন্নতি করতে পারে। যে-সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা থাকে না, সেই সমাজ অসাম্যের মুখোমুখি হয়। যা সমাজের পক্ষে ‘আত্মহত্যার’ শামিল। আংশিক সময়ের শিক্ষক হোন বা চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক, তাঁরা আসলে সকলে শিক্ষকই। কোনও আংশিক সময়ের শিক্ষককে যে-ভাবেই নিয়োগ করা হোক না কেন, তিনি যদি স্থায়ী পদে নিযুক্ত শিক্ষকদের মতো একই দায়িত্ব পালন করেন। তা হলে তিনি স্থায়ী পদে নিযুক্ত শিক্ষকদের মতো ন্যূনতম মূল বেতন দাবি করতেই পারেন। তাই সংশ্লিষ্ট দুই আংশিক সময়ের শিক্ষকের বকেয়া অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকার কে।
সমকাজে সমবেতন পাবেন আংশিক সময়ের শিক্ষকরা। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ডিভিশন বেঞ্চ কে জানান ওই দুই শিক্ষকের নিয়োগ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হয়নি। তাই তাঁরা সমান বেতনের দাবি জানাতে পারেন না। এতে রাজ্যের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। যদিও ডিভিশন বেঞ্চ অ্যাডভোকেট জেনারেলের যুক্তি খারিজ করে দেয়।
এদিকে শুধু সমকাজে সম বেতনই নয়, ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকার কে জানিয়েছে মামলাকারী ওই দু’জন ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষকতা করলে স্থায়ী শিক্ষকদের মতো সুযোগ-সুবিধা যাতে পান, রাজ্য সরকারকে সেটাও বিবেচনা করতে হবে।



