রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পরই বড়সড় ঘোষণায় চমক নতুন সরকারের। আগামী ১ জুন থেকে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকবে মাসে ৩,০০০ টাকা—‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, একই দিন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ভাড়া সম্পূর্ণ মকুবের সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পরেই এই যুগ্ম ঘোষণা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলেছে।
নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ স্পষ্টতই মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে বড় বার্তা দিচ্ছে। ভোট প্রচারে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ একাধিক সভা থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে সরকার গঠনের প্রথম কর্মদিবস থেকেই—যা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।


এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প ছিল মহিলাদের জন্য অন্যতম বড় সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ। প্রথমে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাধারণ ক্ষেত্রে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতি মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা। এবার সেই জায়গাতেই দ্বিগুণেরও বেশি অর্থসাহায্য দিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করল রাজ্য সরকার।
১ জুন থেকেই শুরু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, মাসে ৩০০০ টাকা কারা পাবেন? স্পষ্ট করলেন অগ্নিমিত্রা

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁরাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসবেন। অর্থাৎ নতুন করে ব্যাপক আবেদন প্রক্রিয়ার বদলে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে। তবে এর আগে একটি বিস্তারিত যাচাই প্রক্রিয়া চলবে—যেখানে মৃত ব্যক্তি, অযোগ্য আবেদনকারী বা ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যাচাইয়ের লক্ষ্য হল প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযোগ—যেখানে অনেক যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত হচ্ছেন—সেগুলি দূর করা। একই সঙ্গে, যাঁরা অনিয়মিতভাবে সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হবে।


এদিকে, বিজেপির তরফে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার ঘোষণাও কার্যকর হচ্ছে ১ জুন থেকেই। উল্লেখযোগ্যভাবে, দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরীবাল-এর সরকার প্রথম এই প্রকল্প চালু করেছিল, যা পরবর্তীতেও বহাল রয়েছে। এবার সেই মডেলেই পশ্চিমবঙ্গেও একই সুবিধা চালু হতে চলেছে।
তবে এখনও একটি প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে—লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান উপভোক্তাদের কি নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে? এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিতভাবেই হবে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই সুবিধা পান।
সব মিলিয়ে, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ শুধু একটি সামাজিক প্রকল্প নয়—এটি রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১ জুন থেকেই এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।







