১ জুন থেকে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প। রাজ্যের মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে নতুন বিজেপি সরকার। তবে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, কারও নাম বাদ যাবে কি না এবং নতুন করে আবেদন করতে হবে কি না— তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এবার সেই জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন রাজ্যের নতুন নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, সবাই অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার পাবেন। সমস্ত টাকাই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, টাকা দেওয়ার আগে উপভোক্তাদের তালিকা নিয়ে বিশেষ যাচাই বা অ্যানালিসিস করা হবে। অগ্নিমিত্রার কথায়, “যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর পাওয়ার কথা নয়। যিনি দেশের নাগরিক নন, তাঁরও পাওয়ার কথা নয়। যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কারা এখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই অনুযায়ী নাম বাদ যাবে।”
অর্থাৎ, নতুন প্রকল্পে মূলত বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারাই অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, তবে ভুয়ো বা অযোগ্য নাম চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।
তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছিল। একাধিক নির্বাচনে এই প্রকল্পকে বড় সাফল্যের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই প্রকল্প চালু থাকবে।
অন্যদিকে বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’-এর প্রতিশ্রুতি দেয়। ক্ষমতায় এসেই সেই প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা পাঠানো শুরু হবে।
এদিকে নতুন করে আবেদন বা ফর্ম ফিলআপ করতে হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তথা বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং জানান, “এখনও এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের ভেরিফিকেশন হবে।”
তাঁর অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো উপভোক্তা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, আবার যাঁদের প্রকৃতপক্ষে পাওয়ার কথা, তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আবাস যোজনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এবার সেই ধরনের অনিয়ম রুখতেই যাচাই প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



