মুখ্যমন্ত্রী নাকি মন্ত্রীদের দফতরে বসে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন—এমন খবর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। সেই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী এমন কোনও নির্দেশ দেননি। বরং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে রাস্তায় নেমে ফিল্ড ওয়ার্ক করার নির্দেশই রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের ছড়ানো খবরের প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এমন কোনও নির্দেশ দেননি। তাঁর দাবি, বিষয়টি স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে ওই খবর খারিজ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজের ফিল্ড ওয়ার্কের ব্যাখ্যাও দেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় নেমে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই কাজ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই করা হচ্ছে। অর্থাৎ, দফতরে বসে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাকেও তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অগ্নিমিত্রার দাবি, রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আওতায় একাধিক ক্ষেত্রে অভিযান ও তদারকি চলছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, শহরের পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো এবং রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলিতে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন।
শহরের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বিভিন্ন এলাকায় বাথরুম তৈরি, ডাস্টবিন বসানো এবং নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ও মার্কিংয়ের কাজ করা হচ্ছে।
এই কাজের সময় মন্ত্রীর নিয়মিত ফিল্ডে উপস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। বিরোধীদের একাংশ মন্ত্রীদের ‘অতি তৎপর’ বলে কটাক্ষ করেছে। তবে অগ্নিমিত্রা পাল সেই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
তিনি জানিয়েছেন, কে কী বলছেন বা কী ধরনের প্রচার চলছে, তা নিয়ে তাঁরা মাথা ঘামাচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, সরকার ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
অগ্নিমিত্রার দাবি, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি দফতরকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ শেষ করে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কথিত ‘দফতরে বসে কাজের’ পরামর্শকে ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা নিয়ে পুরমন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্ন ছবি সামনে এসেছে। একদিকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পালের প্রকাশ্য অস্বীকার—দুইয়ের মধ্যে কোনটি প্রশাসনিক নির্দেশের প্রকৃত অবস্থান, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



