পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু-কে। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিপুল সংখ্যক অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দেন সুজিত বসু। ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পর এই প্রথম তিনি তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হন। এর আগে গত ১ মে তিনি হাজিরা দিয়েছিলেন, তবে ভোটের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে একাধিকবার তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আদালতে সেই কারণও জানানো হয়েছিল তাঁর পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে তদন্তে যোগ দেন তিনি।


দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫০ জনকে অবৈধ ভাবে চাকরি, সুজিত বসুকে গ্রেফতার করল ইডি

ইডি সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি সুজিত। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপরই গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থা।
এর আগেও এই মামলায় সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তাঁর মালিকানাধীন একটি ধাবাতেও অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি তাঁর পুত্র সমুদ্র বসু-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁদের বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
যদিও শুরু থেকেই সুজিত বসু দাবি করে এসেছিলেন, যে মামলায় তাঁকে ডাকা হচ্ছে, সেই মামলায় ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং সেখানে তাঁর নাম নেই। সেই যুক্তি দেখিয়ে তিনি বারবার নিজের নির্দোষতার দাবি করেছিলেন।


তবে ইডির তদন্তে নতুন করে উঠে আসা তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে এই গ্রেফতারি বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জনকে বেআইনি ভাবে নিয়োগের অভিযোগ ঘিরে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এই গ্রেফতারির পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটি বড় পদক্ষেপ। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।







