শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্তকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হল। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ধৃত রাজ সিংহের মা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছেন। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় অভিযুক্তের পরিবারের এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে গুলিতে খুন হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে একাধিক জায়গায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে গ্রেফতার করা হয় রাজ সিংহ, ময়াঙ্করাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্যকে। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার আদালতে তোলা হলে তিন অভিযুক্তকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজের মা জামবন্তী সিংহ দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে নির্দোষ। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আমার ছেলেকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছে। ও কোনওদিন কলকাতায় যায়নি, এমনকি ঘুরতেও নয়।”
জামবন্তীর দাবি, ৭ মে তিনি ছেলে রাজকে নিয়ে লখনউয়ে গিয়েছিলেন এক রাজনৈতিক নেতার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তাঁর কথায়, “আমরা পাঁচজন একসঙ্গে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে অম্বেডকর নগরের একটি দরগায় যাই এবং সেখানকার হোটেলে রাত কাটাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, ৯ মে সকালে অযোধ্যার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে আলাদা করে রাখা হয়। জামবন্তীর অভিযোগ, “১০ মে আমাকে জানানো হয়, রাজকে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
নিজের দাবির সমর্থনে তিনি জানান, ৬ মে রাজ বালিয়াতেই ছিল, তার প্রমাণ হিসেবে বাড়ি, দোকান ও জিমের সিসিটিভি ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে। সেই ফুটেজে রাজের উপস্থিতি দেখা যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজ সিংহ আগে ক্ষত্রিয় মহাসভার জেলা সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেও জানিয়েছেন তাঁর মা। পুরো ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে অন্যদিকে, বালিয়া পুলিশের নথিতে রাজের বিরুদ্ধে আগেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। জেলা অপরাধ নথি ব্যুরোর আধিকারিক বিপিন সিংহ জানিয়েছেন, ২০২০ সালে বালিয়ায় এক ডিম ব্যবসায়ী খুনের মামলায় রাজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
যদিও বালিয়ার পুলিশ সুপার ওমবীর সিংহ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রাজের গ্রেফতারি নিয়ে স্থানীয় পুলিশকে আগে থেকে কোনও তথ্য দেয়নি।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে ইতিমধ্যেই এসটিএফ এবং সিআইডি-কে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সুপরিকল্পিত চক্র কাজ করেছে। তবে ধৃতদের পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগে মামলাটি এখন আরও রাজনৈতিক ও বিতর্কিত মোড় নিতে চলেছে।



