লিগজয়ের লড়াইয়ে বড় সুযোগ হাতছাড়া করল ইস্টবেঙ্গল। ঘরের মাঠ যুবভারতীতে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে জিতলেই অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যেত শিরোপার দৌড়ে। কিন্তু আক্রমণে ধারহীন ফুটবল খেলল অস্কার ব্রুজোর দল। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হল লাল-হলুদকে। ম্যাচে একাধিকবার দলের পতন রুখে দিলেন গোলকিপার প্রভসুখন গিল, নাহলে ফল আরও খারাপ হতে পারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দহীন দেখায় ইস্টবেঙ্গলকে। অস্কার ব্রুজোর প্রথম একাদশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সৌভিক চক্রবর্তীকে শুরুতে নামানো নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকেই। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখেন তিনি, এরপর কিছুক্ষণ বাদেই তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন অস্কার।


মাঝমাঠে কার্যত প্রভাবহীন ছিলেন মহম্মদ রশিদ ও মিগুয়েল ফিগুয়েরা। বলের দখল ধরে রাখা থেকে আক্রমণ গড়া— কোনও ক্ষেত্রেই ছন্দ খুঁজে পায়নি ইস্টবেঙ্গল। ইউসেফ এজ্জেজারিদের কাছেও সেভাবে বল পৌঁছয়নি।
প্রথমার্ধে লাল-হলুদের উল্লেখযোগ্য সুযোগ বলতে ছিল মিগুয়েলের একটি পেনাল্টির আবেদন, যা নাকচ করে দেন রেফারি। বরং বিপজ্জনক আক্রমণ বেশি করেছে পাঞ্জাব। দানি রামিরেজের একটি শট বারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। ৫৩ মিনিটে লুংডিমের দুরন্ত কার্লার শরীর ছুড়ে বাঁচান প্রভসুখন গিল। বিষ্ণুকেও কার্যত বোতলবন্দি করে রাখেন তিনি। রক্ষণে আনোয়ার আলি ও কেভিন সিবিল্লে কিছুটা স্থিরতা আনলেও, আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।


৭৮ মিনিটে পরিবর্তন আনেন অস্কার ব্রুজো। কিন্তু ততক্ষণে পাঞ্জাব রক্ষণে ৬-৭ জন নামিয়ে কার্যত প্রাচীর তৈরি করে ফেলেছে। এরপর মিগুয়েলের একটি শট বারে লাগে। শেষ দশ মিনিটে চাপ বাড়ালেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি লাল-হলুদ।
শেষ দিকে এজ্জেজারির বদলে অ্যান্টন সোয়বার্গকে নামানো হলেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রায় মাঝমাঠ থেকে রশিদের নেওয়া দূরপাল্লার শট বার ছুঁয়ে ফিরে আসে। রিবাউন্ডে মিগুয়েল পৌঁছতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। এই ফলের ফলে লিগজয়ের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেল লাল-হলুদ শিবিরের সামনে। ডার্বির আগে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগও বাড়ল সমর্থকদের মধ্যে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



