দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সমাধানের পথে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ISL। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে গিয়েছে বলে মনে করছে ফুটবল মহল।
বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, ভবিষ্যতে ISL পরিচালনায় ক্লাবগুলির সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এ জন্য একটি যৌথ পরিচালন কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে ক্লাব এবং ফেডারেশন— উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে এই কমিটি গঠন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। লিগের প্রশাসনিক এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই কমিটিই মূল ভূমিকা পালন করবে।


এ ছাড়াও প্রতিটি ক্লাবকে প্রতি মরশুমে ১.১ কোটি টাকা করে ফেডারেশনকে দেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৪টি ক্লাব অংশ নিলে এই খাতে ফেডারেশনের আয় প্রায় ১৫.৪ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। এর ফলে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত আর্থিক সংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রীর আশ্বাসে বাড়ল আস্থা
বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়েই ISL শুরু হবে এবং লিগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ক্লাবগুলির তৈরি বিকল্প প্রস্তাবকেও তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। নতুন রূপরেখা অনুযায়ী আগামী চার বছর ক্লাব ও ফেডারেশন যৌথভাবে লিগ পরিচালনা করবে। স্টেডিয়াম পরিচালনা, ম্যাচ আয়োজন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ক্লাবগুলি এই ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার বিষয়টিও উত্থাপন করেছে।
কেন তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা?
গত কয়েক মাস ধরে লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাবগুলির সঙ্গে মতবিরোধ চলছিল। বিশেষ করে লিগের নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল ক্লাবগুলি। তাদের দাবি ছিল, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় লিগের প্রকৃত বাণিজ্যিক মূল্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। সেই কারণেই ক্লাবগুলি নিজেদের উদ্যোগে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের বৃহত্তর ভূমিকার দাবি জানানো হয়।


জিনিয়াস স্পোর্টসের ভূমিকা থাকছে, তবে সীমিত
বৈঠকের পরে স্পষ্ট হয়েছে যে জিনিয়াস স্পোর্টস পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে না। প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে তারা যুক্ত থাকবে। তবে মিডিয়া স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অধিকারের উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এই ক্ষেত্রগুলিকে আলাদা কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ক্লাবগুলি নিজেদের আয় বৃদ্ধির আরও সুযোগ পায়।
নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ভারতীয় ফুটবল
যদিও এখনও কিছু আইনি ও প্রশাসনিক বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি রয়েছে, তবু সাম্প্রতিক বৈঠককে ISL-এর ভবিষ্যতের জন্য বড় অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই পক্ষের আইনজীবীরা বসে চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করবেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন কাঠামোয় পথ চলা শুরু করবে ISL।
ভারতীয় ফুটবলের জন্য এটি শুধু প্রশাসনিক সমাধান নয়, বরং ক্লাব, ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে নতুন আস্থার ভিত্তি গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



