ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব হাতে পেয়েই নিজের ভাবনা স্পষ্ট করে দিলেন শ্রেয়স আয়ার। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে সরাসরি অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া এই ব্যাটার জানিয়ে দিলেন, নেতৃত্বের কারণে নিজের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব বদলানোর কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। বরং জয়ের মানসিকতা এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব আরও বেশি করে দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
রবিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রেয়স বলেন, অধিনায়কত্ব তাঁর কাছে নতুন দায়িত্ব হলেও নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও চরিত্রে কোনও পরিবর্তন আনতে চান না। তাঁর কথায়, অন্য কারও পথ অনুসরণ নয়, নিজের বিশ্বাস ও ক্রিকেট দর্শন নিয়েই তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
মুম্বইয়ের ক্রিকেট সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে নতুন অধিনায়ক জানান, ছোটবেলা থেকেই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। মুম্বইয়ে প্রতিটি ক্রিকেটারের স্বপ্ন রাজ্য দলের জার্সি গায়ে চাপানো, আর সেই পরিবেশই তাঁকে লড়াই করতে শিখিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই এখন জাতীয় দলের নেতৃত্বে কাজে লাগাতে চান শ্রেয়স।
ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট দর্শন নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শ্রেয়সের মতে, দলকে এমন মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে যেখানে জয়ের ক্ষুধা সবসময় বজায় থাকবে। তবে শুধুমাত্র ফলাফল নয়, খেলা উপভোগ করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং ইতিবাচক মনোভাবই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি।
নতুন অধিনায়কের বক্তব্য, যে কোনও খেলায় উন্নতির জন্য নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকতে হয়। ভারতীয় দলের মধ্যে সেই মানসিকতা আরও শক্তিশালী করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে দায়িত্বটাকে তিনি সম্মানের পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন।
এদিকে শ্রেয়সের অধিনায়ক হওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর মতে, পারফরম্যান্সের জোরেই এই সুযোগ অর্জন করেছেন শ্রেয়স। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে তিনি বলেন, দল গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নির্বাচকদেরই।
নতুন নেতৃত্বে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে প্রথম বার্তাতেই শ্রেয়স আয়ার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দল আগ্রাসী মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং জয়ের অদম্য ইচ্ছাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।



