অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ কি এবার সরকারি নজরে? বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক মন্তব্য ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের জন্য নতুন বিল আনার ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু বলেন, কলকাতার রাস্তায় ও ফ্লাইওভারের নীচে থাকা মানুষদের জন্য ‘প্রাসাদসম’ বাড়িগুলি ব্যবহার করা হবে। এরপর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’কে ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম জবাবি ভাষণ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি তৃণমূল আমলের দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় তুলে ধরেন।
শুভেন্দুর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর হতে চলেছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং নিলামের জন্য একটি নতুন বিল আনার প্রস্তুতি চলছে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গুন্ডা, মাফিয়া, তোলাবাজ—কেউ জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকেই ভাবছেন কয়েক মাস জেলে থেকে জামিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু এবার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে, নিলামও করা হবে।”
এরপরই তিনি হরিশ মুখার্জি ও হরিশ চ্যাটার্জি রোডের কয়েকটি ‘প্রাসাদ’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। শুভেন্দুর দাবি, কলকাতার রাস্তায় ও ফ্লাইওভারের নীচে যাঁরা রাত কাটান, ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য সেই ধরনের বড় বাড়িগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মন্তব্যের পর বিধানসভায় বিজেপি সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ঘিরেই করা হয়েছে। কারণ, হরিশ মুখার্জি ও হরিশ চ্যাটার্জি রোড এলাকায় অভিষেকের সম্পত্তি রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এর কিছু নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলাসহ একাধিক বিতর্কে তাঁর নাম উঠে এসেছে। এই ঘটনায় তাঁকে সিআইডির জেরার মুখেও পড়তে হয়েছে।
তবে সরকার আদৌ কোনও নির্দিষ্ট সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দিকে এগোবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে—দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পরবর্তী লক্ষ্য কি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পত্তি? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে।



