সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও একইসঙ্গে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু ভাতা বা বেতন বৃদ্ধি নয়, এবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মক্ষমতা, যোগ্যতা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হবে। ফলে রাজ্যের হাজার হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারের মধ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি বিস্তৃত যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বর্তমানে এমন অনেক সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছেন যাঁরা কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করছেন না। কারও বিরুদ্ধে কর্মবিমুখতার অভিযোগ রয়েছে, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে সুযোগ পেয়েছেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়োগের সময় ভুয়ো বয়স বা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যায়ন ও যাচাই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সেই প্রক্রিয়ায় কর্মদক্ষতা, নথিপত্র এবং নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে।
রাজ্য সরকারের এই অবস্থানকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন একাংশ। যদিও সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারণ, বেতন বৃদ্ধি যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই সম্ভাব্য যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। ফলে আগামী দিনে এই বাছাই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।



