আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রবিবার কলকাতার রেড রোডে এক অনন্য অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল বাংলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের বিশ্বজনীন গুরুত্বের বার্তা তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল সুস্থ জীবন, মানসিক শান্তি এবং বিশ্বের উন্নয়নে যোগের অপরিহার্য ভূমিকার প্রসঙ্গ।
১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একাধিক যোগাসন অনুশীলন করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাঁদের যোগচর্চা পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি কয়েকজনের যোগাসনের ভঙ্গি সংশোধন করতেও দেখা যায় তাঁকে।
নিজের ভাষণে মোদি বলেন, আজ যোগ শুধুমাত্র ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং গোটা বিশ্বের জীবনধারার অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে বিশ্বের ১৯২টি দেশে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে। যোগ এমন এক শক্তি, যা ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একসূত্রে বেঁধেছে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকেই প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বজুড়ে যোগ দিবস পালন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, যোগ কেবল শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষের চেতনা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্থিতিশীলতার বিকাশ ঘটায়।
মোদি বলেন, “২১ জুন এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনঅংশগ্রহণমূলক উৎসবগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে। যোগ শুধুমাত্র শরীরকে সুস্থ রাখে না, মানুষের মন ও সমাজকেও একত্রিত করে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের নানা সংকট ও বিভাজনের সময়ে যোগ মানুষকে ঐক্য, সংযম এবং ইতিবাচকতার পথে নিয়ে যেতে পারে।
নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে জোর দেন সুস্থ বার্ধক্যের ওপর। তাঁর মতে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত যোগাভ্যাস সেই সীমাবদ্ধতাকে অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৫০ বছর বয়সে ৩০ বছরের থেকেও বেশি প্রাণবন্ত থাকা। যোগ সেই শক্তি ও উদ্যম ধরে রাখতে সাহায্য করে।”
এদিন তিনি দেশের মানুষকে শুধু একটি দিনের জন্য নয়, সারা বছর নিয়মিত যোগাভ্যাস করার আহ্বান জানান। যোগকে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং আগামী প্রজন্মের সংস্কৃতির অংশ করে তোলার জন্যও তিনি আবেদন জানান। তাঁর মতে, সুস্থ, সচেতন এবং শক্তিশালী সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি হতে পারে নিয়মিত যোগচর্চা।
রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিলেন, তার মূল সুর ছিল একটাই— যোগ শুধু ব্যক্তিগত সুস্থতার উপায় নয়, বরং একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ এবং সমন্বিত বিশ্বের নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



