৩১ অগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করেছিলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর গল্পটা শেষ হচ্ছে আরও একটি বিশেষ রাতের পর। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) নিশ্চিত করেছে, আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এটিই হতে চলেছে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ।
মেসির আন্তর্জাতিক অবসরের ঘোষণা এসেছিল ৩১ অগস্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর এবং তাঁর বাবা জর্জ মেসির মৃত্যুর পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহল চেয়েছিল দেশের মাটিতে সমর্থকদের সামনে কিংবদন্তি অধিনায়ককে যথাযথ বিদায় জানাতে।
সেই পরিকল্পনাতেই ৬ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসে আয়োজন করা হয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন প্রীতি ম্যাচ। ম্যাচটি হবে রিভার প্লেটের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্টালে (Estadio Monumental), যে স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের জায়গা রয়েছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, মেসিকে তাঁর প্রাপ্য বিদায় দেওয়ার জন্যই এই ম্যাচকে বিশেষ করে তোলা হচ্ছে।
শুধু মেসিকে বিদায় জানানো নয়, ৬ অক্টোবরের ম্যাচকে ঘিরে আরও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন AFA সভাপতি। ফলে কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের একাধিক পরিচিত মুখকে ফের একসঙ্গে দেখা যেতে পারে মনুমেন্টালের মাঠে।
আর্জেন্টিনার আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতে মোট তিনটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবার এস্তাদিও মারিও আলবের্তো কেম্পেসে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টালেই ম্যাচ রয়েছে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে। সবশেষে ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।
তবে মেসিকে প্রথম দুটি ম্যাচে দেখা যাবে না। AFA-র ঘোষণায় মেসি, রদ্রিগো দে পল এবং জিওভানি লো সেলসোকে মূলত ৬ অক্টোবরের ম্যাচের জন্য দলে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বলিভিয়া বা বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে নয়, বেনিনের বিপক্ষেই মেসির জাতীয় দলের শেষ উপস্থিতি হতে চলেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসি না থাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত ফিফার শাস্তির কারণে ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে স্টেডিয়ামের দর্শকসংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে খেলতে হবে। ফলে সেই ম্যাচটি মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত মঞ্চ হয়ে উঠত না।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তিনি দেশের হয়ে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১২৫ গোল। এই মুহূর্তে তিনিই আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও স্পেনের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়। সেই ম্যাচের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান মেসি।
ফলে ৬ অক্টোবরের আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচ শুধু একটি সাধারণ প্রীতি ম্যাচ থাকছে না। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টালে সেদিন নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন মেসি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের পর দেশের দর্শকদের সামনে তাঁর সেই শেষ ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিশেষ প্রত্যাশা।



