চিনির দামে বড় স্বস্তির ইঙ্গিত, পাইকারি বাজারে কেজি পিছু ৫০ টাকা দর বেঁধে দিল রাজ্য

উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে পাইকারি বাজারে কেজি পিছু ৫০ টাকা দর রাখার সিদ্ধান্ত রাজ্যের। সুফল বাংলা ও রেগুলেটেড মার্কেটের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুজোর আগে চিনির বাড়তে থাকা দামে লাগাম পরাতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কৃষি বিপণন দফতর ও পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ীদের আলোচনার পর পাইকারি বাজারে চিনির দাম কেজি পিছু সর্বোচ্চ ৫০ টাকার মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের আশা, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খুচরো বাজারেও চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। উৎসবের মরশুমে সুফল বাংলা স্টলের মাধ্যমেও চিনি বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

গত কয়েক মাসে চিনির দাম দ্রুত বেড়েছে। অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতার বাজারে দাম প্রায় ৭৫ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছিল বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তা কিছুটা কমলেও সাধারণ ক্রেতা এবং মিষ্টি ব্যবসায়ীদের উপর চাপ থেকেই গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আটকাতেই ব্যবসায়ী ও চিনি কলগুলির সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেছে কৃষি বিপণন দফতর। সেপ্টেম্বরের ৩, ৫ এবং ১১ তারিখে পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। লক্ষ্য ছিল উৎসবের আগে বাজারে পর্যাপ্ত চিনি রাখা এবং পাইকারি স্তরে দামের উপর নজরদারি বাড়ানো।

রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, উৎসবের মরশুমে অন্তত তিন মাস চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে। ব্যবসায়ীদের সরবরাহ ব্যবস্থায় যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির গোডাউনে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি সুফল বাংলা এবং রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে চিনি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সুফল বাংলা ইতিমধ্যেই রাজ্যের কৃষি বিপণন দফতরের অধীনে বাজারদর ও কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সরকারি উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।

সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পাইকারি ও খুচরো বাজারে দামের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো বা মজুত করে বাজারে সরবরাহ কমানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম নিয়েও নজরদারি বাড়াচ্ছে রাজ্য। খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চাপের কারণ হয়ে রয়েছে। কৃষি বিপণন দফতরের তরফে বাজারগুলিতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

শুধু তাৎক্ষণিক নজরদারি নয়, পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নিজস্ব ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ১০টি সংরক্ষণকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে মরশুমের বাইরে সরবরাহের ঘাটতি এবং আচমকা দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

জাতীয় স্তরেও সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দামে চাপ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সারা দেশে চিনির গড় পাইকারি দাম ছিল প্রতি কুইন্টালে ৫,৪৩৬.৮৪ টাকা। ফলে রাজ্যের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন সরবরাহ ও মূল্য—দুই বিষয়েই নজরদারি চলছে।

পুজো ও উৎসবের মরশুমে চিনি শুধু পরিবারের রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় পণ্য নয়, মিষ্টি ও বিভিন্ন উৎসবের খাবারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাইকারি বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে খুচরো বাজারেও পড়তে পারে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনে বাজারে সত্যিই কতটা দাম কমে এবং সেই সুবিধা কতটা দ্রুত সাধারণ ক্রেতার কাছে পৌঁছয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন