টানা পতনের পর বুধবার সকালে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল ভারতীয় শেয়ার বাজার। ট্রেডিং সেশন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেনসেক্স প্রায় ৩৭৫ পয়েন্ট বা ০.৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময়ে নিফটি ৫০-ও ১২৪ পয়েন্ট বা ০.৫৪ শতাংশ উঠে যায়। তবে বড় সূচকে এই উত্থানের বিপরীতে স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপের একাংশে দুর্বলতা দেখা গিয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক লেনদেনে অবশ্য বেশ কিছু জায়গায় ইতিবাচক ছবি দেখা যায়। নিফটির আইটি, ব্যাঙ্ক, অটো, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, ফিনানশিয়াল সার্ভিস এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার সূচকগুলি সকালের ট্রেডে সবুজে ছিল। ফলে মঙ্গলবারের তীব্র বিক্রির পর বাজারে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতীয় বাজারে বড়সড় পতন হয়েছিল। দিনের শেষে সেনসেক্স ৭৭৭.৯৪ পয়েন্ট বা ১.০৪ শতাংশ কমে ৭৪,০০৩.৮২-তে থামে। নিফটি ৫০-ও ২৭৯.৫০ পয়েন্ট বা ১.১৯ শতাংশ পড়ে ২৩,১১৮.৬০-তে বন্ধ হয়। ওই দিন নিফটি পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন স্তর স্পর্শ করেছিল।
বাজারের বৃহত্তর অংশেও মঙ্গলবার চাপ ছিল। নিফটি মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচক দুটিই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। রিয়েলটি সূচকের পতন ছিল প্রায় ৪ শতাংশ, আর অটো, কনজিউমার ডিউরেবলস, এনার্জি, মেটাল, মিডিয়া ও PSU ব্যাঙ্কের মতো সেক্টরগুলিও চাপের মুখে ছিল। একমাত্র আইটি সেক্টর তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল।
বুধবারের প্রাথমিক ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারের কিছু ইতিবাচক সংকেত কাজ করেছে। GIFT Nifty-তে আগেই ইতিবাচক শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের সতর্কতার কারণও রয়েছে—বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, মার্কিন ট্রেজারি ইয়িল্ডের উত্থান এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদের সিদ্ধান্ত এখনও বাজারের উপর চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ নজরে রয়েছে আইটি শেয়ারও। মঙ্গলবার ভারতীয় আইটি সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গিয়েছিল। TCS, Infosys, HCL Technologies এবং Tech Mahindra-র মতো বড় আইটি সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা বাজারকে কিছুটা সমর্থন দেয়।
অন্যদিকে, তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ সংক্রান্ত আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৮ ডলারের আশপাশে উঠে গিয়েছিল। এর প্রভাব ভারতের মুদ্রা ও শেয়ার বাজার—দুই ক্ষেত্রেই পড়ছে। মঙ্গলবার ভারতীয় টাকা ডলারের বিপরীতে ৯৫.৯৫৫০-তে বন্ধ হয়েছিল।
ফলে বুধবার সকালের উত্থান বাজারে স্বস্তির বার্তা দিলেও দিনের শেষে এই ইতিবাচক গতি কতটা ধরে রাখা যায়, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের। সেনসেক্স-নিফটির পাশাপাশি মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপের গতিবিধি, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সংকেতই বুধবারের লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।



