টানা দ্বিতীয় দিনেও চাপের মুখে দেশের শেয়ার বাজার। বুধবার শুরুতে শেষ ক্লোজিংয়ের কাছাকাছি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ তীব্র হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সেনসেক্স প্রায় ৬২৮ পয়েন্ট বা ০.৮০ শতাংশ নেমে যায়, অন্যদিকে নিফটি৫০ পড়ে প্রায় ১৯৯ পয়েন্ট বা ০.৮২ শতাংশ। অধিকাংশ সেক্টরাল সূচক লাল থাকায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক বাজার আপডেটেও উচ্চ অপরিশোধিত তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে বড় চাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বাজারের শুরুটা অবশ্য খুব একটা খারাপ ছিল না। সেনসেক্স ও নিফটি৫০ আগের দিনের ক্লোজিংয়ের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু লেনদেন যত এগিয়েছে, ততই বাড়তে থাকে বিক্রির চাপ। ফলে দ্রুত নিম্নমুখী হয়ে পড়ে দুই প্রধান সূচক।
এই পতনের পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে উদ্বেগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশে ও আমেরিকায় আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকেও নজর রয়েছে বাজারের। সুদের হার সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে বড় কোনও নতুন পজিটিভ ট্রিগার না থাকায় বিনিয়োগকারীদের একাংশ আপাতত ঝুঁকি কমানোর পথেই হাঁটছেন।
সেক্টরভিত্তিক লেনদেনেও বুধবার ছবিটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। পিএসই ব্যাঙ্ক এবং মেটাল সূচক তুলনামূলক ভাবে ভালো থাকলেও নিফটির অধিকাংশ সেক্টরাল ইনডেক্সই নিম্নমুখী। ব্রডার মার্কেটেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ সূচকগুলিতেও লাল রং দেখা গিয়েছে। সকালের আপডেটে ১৬টি প্রধান সেক্টরের মধ্যে ১৩টিতেই পতন ছিল।
তবে বাজারের সব অংশে যে বিক্রি হচ্ছে, এমন নয়। মেটাল শেয়ারে তুলনামূলক শক্তি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম বৃদ্ধির প্রভাবেও মেটাল সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ব্যাঙ্কগুলিও অন্যান্য অনেক সেক্টরের তুলনায় ভালো পারফর্ম করেছে।
অন্যদিকে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে বড়সড় ওঠানামা বাজারের সামগ্রিক গতিপথকে প্রভাবিত করছে। Godrej Consumer Products-এর তীব্র পতন FMCG সূচকের উপর চাপ তৈরি করেছে। একই সময়ে কিছু ওষুধ এবং প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। ফলে সূচকের পাশাপাশি stock-specific movement-ও এ দিনের লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে মঙ্গলবারও ভারতীয় শেয়ার বাজারে পতন হয়েছিল। সেই দিনের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, দুর্বল টাকা এবং বিশ্ব বাজারের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ফলে বুধবারের পতন টানা দ্বিতীয় দিনের চাপকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার আরও একটি কারণ নতুন Closing Auction Session (CAS) ব্যবস্থা নিয়েও তৈরি হয়েছে। ডেরিভেটিভস-যুক্ত শেয়ারের official closing price নির্ধারণে নতুন এই ব্যবস্থার ফলে দিনের শেষ পর্বে সূচকের ওঠানামা বেড়েছে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে বুধবারের সকালের পতনের মূল কারণ হিসেবে তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বুধবারের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের জন্য আপাতত স্বস্তির ছবি নেই। সেনসেক্স ও নিফটি৫০-র পতনের পাশাপাশি অধিকাংশ সেক্টর এবং মিড ক্যাপ-স্মল ক্যাপের দুর্বলতা বাজারের বিস্তৃত চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্য—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে দালাল স্ট্রিটের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



