হাবড়ায় পাক নাগরিক গ্রেফতার, কলকাতাতেও পাকড়াও এক! ISI-যোগের সন্দেহে তদন্তে চাঞ্চল্য

স্বাধীনতা দিবসের আগে হাবড়া থেকে পাক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে STF। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তপসিয়া থেকে আরও এক যুবককে পাকড়াও, সেনা ও রেল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্বাধীনতা দিবসের আগে পশ্চিমবঙ্গে ফের চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারি। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে এক পাক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতের নাম ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। সেনাবাহিনী ও রেল পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, ওয়াহাব আলমের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগ ছিল। এমনকি তিনি পাক সেনার সঙ্গে যুক্ত বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। আইএসআই-এর ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাঠমান্ডুকে কেন্দ্র করে কাজ চালাতেন তিনি এবং সেই সূত্রেই বারবার ভারতে যাতায়াত করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি কাঁকড়ভিটা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন রানা। এর আগেও একাধিকবার তিনি ভারতে এসেছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। কলকাতার তপসিয়া এলাকায় থাকাকালীন তিনি স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন কাজকর্ম করতেন। সেই সময় ‘ওয়াহাব’ নামে আধার কার্ড-সহ একাধিক ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন বলেও অভিযোগ।

এই ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির কাজে মহম্মদ ইজাজ তাঁকে সাহায্য করতেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই ইজাজের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তপসিয়া এলাকা থেকে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। আপাতত দু’জনের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, কতদিন ধরে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছিলেন এবং তাঁদের নেটওয়ার্কে আরও কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রানা কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতেন সেই বিষয়টি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারতের সেনাবাহিনী এবং রেল পরিকাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে তাঁর বিশেষ নজর ছিল। সেই তথ্য পাকিস্তানে পাঠানো হত কি না, পাঠানো হয়ে থাকলে কী ধরনের তথ্য পাঠানো হয়েছে এবং তার পিছনে কারা ছিলেন—সবই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের সন্দেহ, শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহেই এই নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। পশ্চিমবঙ্গ বা দেশের অন্য কোথাও কোনও নাশকতামূলক পরিকল্পনা ছিল কি না, কিংবা আরও কোনও ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে সেনা ও রেল পরিকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন, নথিপত্র, যোগাযোগের সূত্র এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের STF। ওই মামলায় হামিমের পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংহ ওরফে রাজকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের সঙ্গে আইএসআই এবং পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল।

সেই মামলাতেও পশ্চিমবঙ্গে নাশকতার ছক নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করে নেতা, মন্ত্রী এবং আমলাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছিল। যদিও ওই মামলার অভিযোগগুলিরও বিচারাধীন তদন্তের ফল এখনও চূড়ান্ত নয়।

তার মধ্যেই এবার হাবড়া ও কলকাতায় জোড়া গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজের সঙ্গে আইএসআই-এর যোগাযোগের অভিযোগ কতটা সত্যি, তাঁদের কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত—তদন্ত এগোলেই তার উত্তর মিলবে।

এই মুহূর্তে তদন্তকারীদের মূল নজর ধৃত দু’জনের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্যের দিকে। অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধৃতদের দোষী বলা যায় না। তবে স্বাধীনতা দিবসের আগে এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা বলাই যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন