আর জি কর কাণ্ডের মতো ঘটনা ঠেকাতে মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা বাড়ানোর প্রয়োজন। তার জন্য গীতাপাঠের উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার বেলঘরিয়ার আদ্যাপীঠ মন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁর বার্তা, মানুষের মনের ‘পাপ’ দূর করতে আধ্যাত্মিক জাগরণ জরুরি। তাঁর কথায়, গেরুয়া কোনও রাজনৈতিক রং নয়, বরং কৃচ্ছসাধনা ও ত্যাগের প্রতীক।
বুধবার বেলা ১১টার কিছু আগে আদ্যাপীঠে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানান মন্দিরের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আশ্রমের আবাসিক ও পড়ুয়ারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রসাদী মালা পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়।
এদিন আদ্যাপীঠের মূল ফটকের উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি আশ্রমের তরফে একটি অ্যাম্বুল্যান্সও প্রদান করা হয়। সেই অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধনও মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই সম্পন্ন হয়। এরপর আদ্যাপীঠের গোশালায় গিয়ে গোমাতার সেবা করেন তিনি।
গোশালা পরিদর্শনের পর মন্দিরে গিয়ে আদ্যা মায়ের পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। অংশ নেন আরতিতেও। পুজো এবং মন্দিরের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, কলকাতা যেমন সাংস্কৃতিক পীঠস্থান, তেমনই তাকে আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। তাঁর বক্তব্য, আধ্যাত্মিক জাগরণের কাজে রাজ্য সরকার সাহায্য করবে। একই সঙ্গে সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলির মানুষের সেবার মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিন গেরুয়া রং নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া কোনও রাজনৈতিক দলের রং নয়। এই রং কৃচ্ছসাধনা, ত্যাগ এবং আত্মসংযমের প্রতীক। মানুষের কাছে গেরুয়া রঙের এই মাহাত্ম্য তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদ্যাপীঠের মঞ্চ থেকে সনাতনী সংস্কৃতি এবং অযোধ্যার রামমন্দির প্রসঙ্গও উঠে আসে। শুভেন্দুর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র প্রসঙ্গও ছিল। তিনি দাবি করেন, অযোধ্যার মন্দির নির্মাণের সঙ্গে বহু মানুষের আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ও গঙ্গার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
তবে তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে বেশি চর্চিত অংশ হয়ে ওঠে আর জি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ। মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমাতে আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে গীতাপাঠের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, মানুষের মনকে শুদ্ধ করার জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন।
আদ্যাপীঠে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আর জি করের মতো ঘটনা রুখতে ধর্মীয় শিক্ষাকে হাতিয়ার করার তাঁর প্রস্তাব নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, আত্মসংযম এবং আধ্যাত্মিক চেতনা বাড়ানো।
এদিন আদ্যাপীঠের কর্মসূচিতে পুজো, গোসেবা, মন্দিরের নতুন ফটক উদ্বোধন এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সূচনার পাশাপাশি সনাতনী সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার প্রসঙ্গই ছিল তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে। গীতাপাঠের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিক বোধ জাগিয়ে তোলার বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।



