রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন হারে এই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে আগামী অগাস্ট ২০২৬ থেকে।
দীর্ঘদিন ধরেই সিভিক পুলিশ ও ভিলেজ পুলিশ কর্মীরা ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রাজ্যের নতুন বাজেটে সেই দাবিরই প্রতিফলন দেখা গেল। সরকারের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তাই তাঁদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু ভাতা বৃদ্ধি নয়, পুলিশ বিভাগে বড় নিয়োগের ঘোষণাও করা হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী, রাজ্যে ২০ হাজার নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত করা এবং বিভিন্ন থানায় কর্মীসংকট দূর করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সরকার।
এবারের বাজেটে সরকারি চাকরি নিয়েও বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। মোট ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণের ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরেও ব্যাপক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তির খবর। বর্তমানে ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা (DA) পাওয়া কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে মোট ডিএ বেড়ে ৩৮ শতাংশে পৌঁছবে। একই সুবিধা পাবেন পেনশনভোগীরাও।
সরকার জানিয়েছে, নতুন হারে ডিএ কার্যকর হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষ ছিল সরকারি কর্মীদের মধ্যে। নতুন সিদ্ধান্ত সেই ব্যবধান অনেকটাই কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগেই জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। বাজেটের ঘোষণাকে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএ সংক্রান্ত মামলায় চলতি বছরের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল Supreme Court of India। আদালত জানায়, সরকারি কর্মীদের ডিএ একটি আইনগত অধিকার। সেই প্রেক্ষিতে বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ ও পে কমিশনের টাকা ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ সরকারি কর্মীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান, সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিভিক পুলিশদের ভাতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পুলিশে ব্যাপক নিয়োগ এবং ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা— সব মিলিয়ে বাজেটকে কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।



